দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এখন খাদের কিনারায়। বরিশাল বিভাগে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। বিভাগের ছয় জেলা ও ৪৪ উপজেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত ২৪৩৮টি পদের বিপরীতে ১৪৩৬টিই বছরের পর বছর শূন্য পড়ে আছে। এমনকি এই অঞ্চলের মানুষের শেষ ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল কাগজে-কলমে এক হাজার শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল রয়ে গেছে সেই ৫০০ শয্যার আমলেরই। অর্ধেকেরও কম চিকিৎসক দিয়ে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চলা এই ভগ্নস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
জানা গেছে, ৫৮ বছর আগে মাত্র ২৫০ শয্যা নিয়ে চিকিৎসাসেবা শুরু করে শেবাচিম হাসপাতাল। রোগীর চাপ ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পরে এটিকে ৫০০ শয্যায় রূপান্তর করে সেই হিসাবেই জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ভবন সংখ্যা ও কাজের পরিধি বাড়ায় কাগজে-কলমে হাসপাতালটিকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সে অনুপাতে বাড়ানো হয়নি জনবল। ফলে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, আবাসনসহ সব ক্ষেত্রেই তীব্র সংকট। অথচ প্রতিদিন এ হাসপাতালে প্রায় ২৫০০ রোগী ভর্তি থেকে এবং বহির্বিভাগে ৩৫০০ জন সেবা নিচ্ছেন।
বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে ৫৭১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ২৪০টি; কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেবাচিম হাসপাতাল বাদে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১ হাজার ৮৬৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৬৭১ জন; এখানে শূন্য রয়েছে ১ হাজার ১৯৬টি পদ।
জেলাভিত্তিক হিসাবে বরিশাল জেলায় (শেবাচিম বাদে) ৪৩৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২২৪ জন, ভোলায় ৩৮৩ পদের বিপরীতে ১০৩ জন এবং ঝালকাঠিতে ২০০ পদের বিপরীতে আছেন ৫৮ জন চিকিৎসক। এছাড়া পটুয়াখালীতে ৩৩৩টি পদের বিপরীতে ১২০ জন, পিরোজপুরে ২৯৫ পদের বিপরীতে ৯২ জন এবং বরগুনায় ২১৭ পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৭৪ জন চিকিৎসক। সব মিলিয়ে শেবাচিম হাসপাতাল ও বিভাগের অন্যান্য সরকারি হাসপাতাল মিলে চিকিৎসকের মোট পদ ২ হাজার ৪৩৮টি, যার মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১ হাজার ২ জন। শূন্যপদ ১ হাজার ৪৩৬টি। সেই হিসাবে প্রতি ৯ হাজার ৯৮০ জন মানুষের জন্য রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক-যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে বরিশাল নগরীর বাসিন্দা মনির পালোয়ান যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ মানুষের শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, এ সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম যুগান্তরকে বলেন, চিকিৎসক সংকট সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করছি, কিছুসংখ্যক চিকিৎসক বরিশাল বিভাগের জন্য পাওয়া যাবে।