যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নিজ দল লেবার পার্টির অভ্যন্তরে শুরু হওয়া তীব্র বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হয়ে এখন পদত্যাগের সময়সীমা ঘোষণার চাপের মুখে আছেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দলের অন্তত ৬০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) প্রকাশ্যে স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্টারমার বিরোধী এই শিবিরে তার নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বী বলে পরিচিত অ্যান্ডি বার্নহাম এবং ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সমর্থকরাও যোগ দিয়েছেন। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের এমপিদের দাবি, আগামী নির্বাচনে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষমতা স্টারমারের আছে—এমন বিশ্বাস তিনি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এর আগে সোমবার সকালে এক ভাষণে স্টারমার ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করে ছাড়বেন। তিনি বলেন, লেবার পার্টি বর্তমানে ‘রিফর্ম ইউকে’-র মতো বিপজ্জনক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করছে। যেকোনো নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
তবে স্টারমারের এই ভাষণ বিদ্রোহের জোয়ার থামাতে পারেনি। উল্টো একের পর এক এমপি বিবৃতি দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানান। লেবার গ্রোথ গ্রুপের কো-চেয়ার ক্রিস কার্টিস, যাকে একসময় স্টারমারের অনুগত মনে করা হতো, তিনি বলেন, “দেশ যে পরিবর্তন চাইছে তা দেওয়ার সক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেই। আমি মনে করি এখনই নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এবং প্রধানমন্ত্রীর উচিত একটি সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা।”
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অজনপ্রিয়তা এবং গত স্থানীয় নির্বাচনের হতাশাজনক ফলাফলকেই এমপিরা তাদের এই বিদ্রোহের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। বার্মিংহাম এর্ডিংটনের এমপি পলেট হ্যামিল্টন বলেন, “ভোটদাতারা বারবার আমাদের একই কথা বলেছেন—জাতীয় সমস্যা এবং দলীয় নেতৃত্বের কারণে তারা আর লেবার পার্টিকে ভোট দিতে পারছেন না।”
বিদ্রোহের আঁচ লেগেছে স্টারমারের মন্ত্রিসভাতেও। বিকেলের দিকে জুনিয়র ফ্রন্টবেঞ্চের তিন কর্মকর্তা (পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি) পদত্যাগ করে স্টারমারকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালে নির্বাচিত হওয়া নতুন এমপিদের একটি বড় অংশও এই দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।
অন্যদিকে, দলের একাংশ এখনই প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন চান না। তাদের মতে, অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে, যার সুবিধা নেবে নাইজেল ফারাজের দল। ওয়েলউইন হ্যাটফিল্ডের এমপি অ্যান্ড্রু লুইন সতর্ক করে বলেন, “আজ যদি আমরা ফারাজের ইচ্ছা পূরণ করি, তবে সেটি কেবল বিরোধীদের জয় হবে না, বরং দেশ এবং লেবার পার্টির শাসন করার ভাবমূর্তিও স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
সব মিলিয়ে, কিয়ার স্টারমার তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কঠিনতম সময় পার করছেন। এখন দেখার বিষয়, অভ্যন্তরীণ এই বিদ্রোহ দমনে তিনি সফল হন নাকি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ বেছে নেন।