রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে অবস্থিত দেশের বৃহৎ গণগ্রন্থাগার ‘সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার’। ২০২১ সালের শুরুতে আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করার জন্য গ্রন্থাগারটি বন্ধ করা হয়। পরিকল্পনা ছিল ২০২৪ সালের মধ্যেই কাজ শেষ করে নতুন রূপে এটি চালু করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকল্পটি পূর্ণতা পায়নি। কবে নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হবে, সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ফলে পাঠকসমাজকে দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনার নির্ভরযোগ্য স্থান ছাড়াই থাকতে হচ্ছে। ছয় বছর ধরে বন্ধ থাকায় পাঠক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয় কার্যত অনুপস্থিত।
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বহুতল গ্রন্থাগার গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এ উন্নয়ন প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের ধীরগতি, নকশা পরিবর্তন এবং ব্যয়বৃদ্ধির কারণে নানা প্রশ্নের মুখে। ২০১৮ সালের রেড শিডিউল অনুযায়ী, ডিপিপি গ্রহণ করে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে স্টিল স্ট্রাকচার ভবন, ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) ব্যবস্থা, আইসিটি অবকাঠামো, আসবাবপত্র ও বই সংগ্রহসহ আধুনিক গ্রন্থাগারের সব উপাদান অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও মূল স্টিল কাঠামোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। আর ই/এম কাজের অগ্রগতি সীমিত ২০ শতাংশের মধ্যে। একাধিকবার নকশা পরিবর্তন এবং দুই দফা ডিপিপি সংশোধনের ফলে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
ফার্নিচার, আইসিটি সরঞ্জাম ও বই ক্রয়ে অতিমূল্যায়নের অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৪ ধরনের ভাতা বরাদ্দ নিয়েও তৈরি হয়েছে সমালোচনা। ফলে একদিকে পাঠকরা পড়ার জায়গা থেকে বঞ্চিত; অন্যদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্প সময়, ব্যয় ও বাস্তবায়ন—সব দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।
প্রকল্পের তথ্য বলছে, ডিপিপি সংশোধন (রিভাইজড ডিপিপি) হলে এ প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াবে ৬২০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সিভিল ও ই/এম কাজে ব্যয় হবে ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গ্রন্থাগারের বিভিন্ন কাজের জন্য আরও ২৫ কোটি টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ই-বুক ও হার্ডবুক (বাঁধাই বই) ক্রয়ে ১৫ কোটি টাকা, অফিস ভাড়া বাবদ ১৫ কোটি টাকা, পরামর্শক ফি বাবদ ১৫ কোটি টাকা এবং আইসিটি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীদের ভাষ্যমতে, কংক্রিটের ওপর স্টিল স্ট্রাকচার নির্মাণের কারণে নকশা পরিবর্তনসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ এবং তিনতলা উচ্চতার স্টিল স্ট্রাকচার ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জটিল হওয়ায় প্রকৌশলীরা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। তাদের মতে, এ ধরনের নকশার বাস্তবায়ন উন্নত বিশ্বেও তুলনামূলকভাবে বিরল। এ কারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা সরাসরি বাস্তবায়নে সমস্যার সম্মুখীন হন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের পরামর্শ নেওয়া হয়। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ৬০ মিটার স্প্যান কমিয়ে ৪০ মিটার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নকশা পরিবর্তন ও বিভিন্ন কারিগরি জটিলতার কারণে এ প্রক্রিয়ায় প্রায় এক বছর সময় অতিবাহিত হয়। একইভাবে ই/এম কাজেও একাধিক জটিলতা দেখা দেয়। যদিও লিফটের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে, তবে বর্তমানে এসি-সংক্রান্ত কাজে সমস্যা রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইসিটি ভবনের বিভিন্ন কাজের মধ্যে সার্ভার সংযোজনের বিষয়টি ছিল। সরকারি দুটি সার্ভার থাকা সত্ত্বেও নতুন আরেকটি সার্ভার কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হলে তা নিয়ে সমালোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে সার্ভার-সংক্রান্ত প্রস্তাব বাতিল করে আইসিটি খাতের ব্যয় ৩১ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৬ কোটি টাকা করা হয়। তবে সরকারি সার্ভার ব্যবহারের জন্য ভাড়া ব্যয় রাখা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, স্টিল স্ট্রাকচার ভবনের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। এরই মধ্যে নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজের টেন্ডার করা হলেও পরিচিত ঠিকাদারকে কমিশনের বিনিময়ে কাজ দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রকল্পটি নানান জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। লিফট টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্বিতীয়বার টেন্ডার করার পর তা সম্পন্ন হয়। বর্তমানে এসি সরবরাহ ও স্থাপনের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
২০১৮ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী, ডিপিপি তৈরি করা হয়। ডিপিপি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০ সেট ভিআইপি সোফা সেট ক্রয়ের প্রস্তাব রয়েছে, যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এ ছাড়া সাধারণ সোফা প্রতি সেট ৮৬ হাজার ৮৭১ টাকা দরে ২৫টি ক্রয়ের প্রস্তাব রয়েছে। ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৪০ টাকায় টিক কাঠ বা গর্জন কাঠ দিয়ে ১৫টি ক্যাটালগ কার্ড ক্যাবিনেট তৈরির প্রস্তাব রয়েছে, যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ২৭৬ টাকা। এ ছাড়া ‘স্পেশাল টাইপ ফুল সেক্রেটারিয়েট টেবিল’ (মাপ: ৬'-৩" × ৩'-৬" × ২'-৬") এবং সঙ্গে সাইড টেবিল (৩'-৬" × ১'-৮" × ২'-৬") ও ফুটরেস্টসহ নকশা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে টিক কাঠ, ভেনিয়ার বোর্ড, এস কোরাই কাঠ, গর্জন প্লাইউড, লক, হ্যান্ডেল এবং টেবিল টপে ৮ মিমি সাদা কাচ ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা বিভাগে এসব তৈরি হবে।
১০টি টেবিলের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ ২২ হাজার ৯৭০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি টেবিলের দাম ৭২ হাজার ২৯৭ টাকা। এর থেকে ছোট আকারের টেবিলের দাম ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার ১৫০ টাকা। একইভাবে একটি কাঠের চেয়ার ১৮ হাজার ৫০৭ টাকা দরে ৬০টি চেয়ার ক্রয়ের প্রস্তাব রয়েছে। আরও ৩০টি সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কাঠের চেয়ার ২৪ হাজার ৮৫৭ টাকা দরে কেনা হবে।
কম্পিউটার ল্যাবের জন্য গোলাকার ৩০ সেট ‘ফাইভ-ইন-ওয়ান’ কম্পিউটার টেবিলের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৪৩ টাকা। এ ছাড়া ২০০টি চেয়ার প্রতিটি ৯ হাজার টাকা দরে ক্রয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
৩'-০" × ১'-৬" × ৭'-০" মাপের ৩০টি স্টিলের নিউজপেপার র্যাকের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটির দাম ২৮ হাজার ৬৯৬ টাকা। পাশাপাশি ১২০টি ভিজিটর চেয়ার প্রতিটি ৭ হাজার ৮১১ টাকা দরে কেনা হবে। নিউজপেপার সেলফের দাম ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৮৪৪ টাকা।
৬০" × ৪০" × ১৫" মাপের ডিসপ্লে বোর্ড, যা সিলেক্টেড গ্রেড ইমাক কাঠ, প্লেইন পারটেক্স ও ভেলভেট কাপড় দিয়ে তৈরি হবে। প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। ২০টি পিরিয়ডিক্যাল র্যাকের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৬২ হাজার ২০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটির দাম ৪৩ হাজার ১০১ টাকা। এসব মূল্য ২০১৮ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।
১ হাজার ৬৮৭ দশমিক ২১ বর্গমিটার আবাসিক ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি বর্গমিটারে ব্যয় প্রায় ৪১ হাজার ১৩২ টাকা। ৫৬ হাজার ১৩৮ দশমিক ৭০ বর্গমিটার অনাবাসিক ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। কম্পিউটার যন্ত্রাংশ (উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার, ল্যাব কম্পিউটার, সিসিটিভি ও আইসিটি অবকাঠামোসহ) বাবদ ৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, ১১টি অফিস সরঞ্জাম বাবদ ২৫ লাখ টাকা এবং ২ হাজার ৭৪৭টি আসবাবপত্র বাবদ ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
একই সঙ্গে আপ্যায়ন খাতে ৫ লাখ টাকা, আপ্যায়ন ভাতা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ভাতা প্রায় ৪ লাখ টাকা এবং টেলিফোন বিল ৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। বিদেশি প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আলাদা করে ভ্রমণ ব্যয় ধরা হয়েছে আরও ১০ লাখ টাকা।
প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নববর্ষ ভাতা, টিফিন ভাতা, আদিকাল ভাতা, বিনোদন ভাতা, আপ্যায়ন ভাতাসহ মোট ১৪ ধরনের ভাতার খাত রাখা হয়েছে। শুধু ভাতা বাবদ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য আলাদা ভাতা ধরা হয়েছে আরও ৫ লাখ টাকা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মাসুদ রানা প্রথমে ডিপিপি রিভাইজের তথ্য গোপন করলেও পরে স্বীকার করে কালবেলাকে বলেন, ‘ডিপিপি কিছু কাজ সংযোজন করায় প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।’ নির্মাণকাজের ধীরগতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাজ চলমান রয়েছে এবং সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৬৭ শতাংশ।’
প্রস্তাবিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়ার পর অনুষ্ঠিত সভায় ১৭টি বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। কিছু বিষয়ে সংশোধন ও বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাগ স্ক্যানার ও মেটাল ডিটেক্টর ক্রয়ের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়, যার বাজারমূল্য ১ কোটি টাকার কম বলে উল্লেখ করা হয়। ৫টি লিফট ও ২টি এসকেলেটর স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ৪ হাজার ২৯১ বর্গমিটার আয়তনের ভবনে ৫টি লিফট ও ২টি এসকেলেটর স্থাপন যথাযথ নয়—এমন মতামতও দেওয়া হয়। পরে আরও ১টি লিফট বাড়িয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রকল্পের জন্য ১টি জিপ, ২টি মিনিবাস ক্রয় এবং ১টি মাইক্রোবাস ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব ছিল। প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী, শুধু ১টি মাইক্রোবাস ক্রয়ের কথা বলা হলেও তা পরিবর্তন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ২৫ কোটি টাকার কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ কেনার প্রস্তাব যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার কথা বলা হলেও ব্যয় কমানো হয়নি। এ ছাড়া প্রস্তাবিত ডিপিপিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিমাণ, ব্যয় বিভাজন এবং ড্রয়িং-ডিজাইনের ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) খাতে ৩ হাজার টন এসির দাম ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি টাকা, ৬টি লিফট ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ২টি এসকেলেটর দেড় কোটি টাকা, সৌর বিদ্যুৎ দেড় কোটি টাকা, ৫০০ কেভি জেনারেটর ২ কোটি টাকা, স্টেজ লাইট ও সাউন্ড সিস্টেম দেড় কোটি টাকা, পার্কিং অটোমেশন ২০ লাখ টাকা, অডিও ডিভাইস ২৮ লাখ টাকা, বিশেষ লাইটিং ৩০ লাখ টাকা, ফোর্স ভেন্টিলেশন সিস্টেম ৫০ লাখ টাকা এবং কম্পিউটার ওয়াইফাই লাইনের ব্যয় ১০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) নিয়াজ মুহাম্মাদ তানভীর কালবেলাকে বলেন, ‘ই/এম কাজের অগ্রগতি বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। লিফটের টেন্ডার সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। এখনো এসি সংক্রান্ত কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।’ সিভিল কাজ সম্পন্ন না হলে ই/এম-এর সব কাজ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সম্ভব কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’
জাতীয় গণগ্রন্থাগারের মহাপরিচালক মনীষ চাকমা কালবেলাকে বলেন, ‘লক্ষ্য আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা। এ জন্য নতুন করে ডিপিপি সংশোধন (রিভাইজ) করা হচ্ছে। এটি প্রকল্পের দ্বিতীয়বার ডিপিপি সংশোধন।’ স্টিল স্ট্রাকচার নির্মাণ ও ই/এম কাজের বিভিন্ন জটিলতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে বলে তিনি জানান।