Image description

আজ সেই ঐতিহাসিক ৫ই মে। ১২ বছর আগে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। এদিন হেফাজতের ডাকে সর্বাত্মক অবরোধ পালন করা হয় ঢাকায়। রাজধানী ঢাকা পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ও নারী নীতির বিরোধিতা করাসহ ১৩ দফা দাবি তুলে হেফাজতে ইসলাম ওই কর্মসূচি নিয়েছিল।

২০১৩ সালের ৫ই মে দিনভর উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়েছিল সংগঠনটির ওই কর্মসূচিকে ঘিরে। একপর্যায়ে অচল হয়ে পড়ে রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলসহ সারা ঢাকা শহর। রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয় হেফাজত কর্মীরা। এ অবস্থা ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক ভীতিকর পরিবেশ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ, র?্যাব ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র অভিযানে খালি করা হয়েছিল শাপলা চত্বর।

২০১৩ সালের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ৫৭ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছি। এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ প্রায় সম্পন্ন। আগামী ৭ই জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য আছে। আমরা আশা করি নির্ধারিত দিনেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারবো।

সূত্র জানায়, এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম আসার সম্ভাবনা থাকলেও এটি সম্ভব হচ্ছে না। তবে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন ৬ জন আসামি। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরে অভিযানের ঘটনায় শুধু ঢাকাতেই ৩২ ব্যক্তির শহীদ হওয়ার তথ্য পেয়েছি। এরা শাপলা চত্বরেই নিহত হয়েছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০ জন এবং চট্টগ্রামে ৫ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তৎকালীন সরকারের যেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা পুলিশ সদস্য সরাসরি জড়িত ছিলেন কিংবা যারা অর্থের জোগান দিয়েছেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। সবাইকে এই মামলায় আসামি করা হবে।

এ মামলায় গত ৫ই এপ্রিল আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সে সময় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রসিকিউশন ২ মাস সময় চাইলে চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ৭ই জুন প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন। মামলায় আসামিদের তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও এসেছে। এছাড়া পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‌্যাব’র সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান এবং ডিএমপি’র সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদের মতো আলোচিত কর্মকর্তাদের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।