দুর্যোগ মোকাবিলায় রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করছে সরকার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মাঠে ২০ শয্যার ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। হাম কিংবা ডেঙ্গুজ্বরের মতো রোগের প্রকোপ বাড়লে সেবা মিলবে এ হাসপাতালে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর শাহবাগ এলাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গণপূর্ত বিভাগের সরাসরি সহায়তায় দ্রুত নির্মাণ করা হচ্ছে এ ফিল্ড হাসপাতাল। ইতোমধ্যে মেঝেতে ইট বিছিয়ে তাঁবু টাঙিয়ে বেড বসানো হয়েছে। আশপাশের আগাছা পরিষ্কার করা হচ্ছে। রাস্তা, ড্রেন সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. সৈয়দ আবু আহমেদ শাফী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিভিন্ন সময় কিছু রোগ প্রকোপ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যেমন- এখন হামের বিস্তার বেড়েছে, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয় মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে হাসপাতালে স্থান সংকুলান হয় না। কোনো রোগী যেন হাসপাতালে শয্যার অভাবে ফিরে না যায় এজন্য ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মাঠে ২০ শয্যার বেশি নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না। কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে চলবে এই ফিল্ড হাসপাতাল। এজন্য ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ইতোমধ্যে রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী বরাদ্দ করেছেন।’
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়াই এই ফিল্ড হাসপাতালের প্রধান লক্ষ্য। চলতি বছর, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত, ৫০ দিনেই হাম ও হাম সন্দেহে ৩১১ শিশু মারা গেছে। গতকাল এক দিনেই রেকর্ডসংখ্যক ১৭ শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে হাম। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৭ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৩ জন। এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৮ হাজার ৮৪২ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২৫ হাজার ১৫১ জন। প্রতি বছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত থাবা বসায় ডেঙ্গু। এডিস মশার কামড়ে সারা দেশে বাড়তে শুরু করে আক্রান্তের সংখ্যা। গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৪১৩ জন। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের হাসপাতালে সেবা নিয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। শুধু রাজধানীতে নয়, বরিশাল, রাজশাহীসহ অন্য বিভাগগুলোতেও ভয়ংকর আকার ধারণ করেছিল ডেঙ্গু। হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারে সংকটে পড়ে অন্য রোগীরা।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘রোগের প্রকোপ বাড়লে হাসপাতালে শয্যার অভাবে কোনো রোগী যেন ফিরে না যায় এজন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মাঠে ২০ শয্যার ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। আমি রবিবার রাতে পরিদর্শন করেছি। দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই রোগী ভর্তি শুরু হবে। প্রতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সেবা পেতে ভোগান্তি হয়, হাসপাতালে স্থান সংকুলান দেখা দেয়। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছানোয় জোর দেওয়া হচ্ছে।’