একসময় যে নদ দিয়ে সওদাগরদের বড় বড় নৌকা চলত, দেশি মাছে ভরপুর আর স্বচ্ছ জলের খ্যাতি ছিল টাঙ্গাইল ছাড়িয়ে দেশজুড়ে, সেই লৌহজং নদ আজ অস্তিত্ব সংকটে। দখল আর দূষণে সরু খালে পরিণত হওয়া এ নদকে বাঁচাতে বারবার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে থেমে যায়। তবে বর্তমান সরকারের চলমান খনন কার্যক্রমে আশার আলো দেখছে টাঙ্গাইলবাসী। তাদের প্রাণের দাবি লৌহজং নদ দখলমুক্ত হবে, নদের দুই পারে হবে দৃষ্টিনন্দন রাস্তা এবং নদ হবে বহমান। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঢালান শিবপুর থেকে মির্জাপুরের বংশাই নদী পর্যন্ত প্রায় ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লৌহজং নদ। টাঙ্গাইল শহরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা এ নদের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে দুই পাশে কয়েক হাজার বাড়িঘর অবৈধভাবে গড়ে
ওঠায় নদটি সরু খালে পরিণত হয়ে মৃতপ্রায় অবস্থা। অথচ একসময় এ নদ দিয়ে জাহাজ ও লঞ্চ চলত শহরের আমঘাট পর্যন্ত। লৌহজং কেবল একটি নদ নয়, এটি টাঙ্গাইলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ পানি আইন-২০১৩-এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং পরিকল্পিত খনন কাজের মাধ্যমে লৌহজং আবার তার হারানো যৌবন ফিরে পাবে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘নদের জমি দখলে রাখা মানে পরিবেশকে গলা কেটে হত্যা করা। ৭৬ কিলোমিটার লৌহজং নদ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করতে পারলে এর সুফল শহরবাসী পাবে। যারা নদ দখল করে ঘরবাড়ি বানিয়েছে তারাও বুঝতে পারবে যে একজন মানুষ বাঁচার চাইতে হাজার, লাখ ও কোটি মানুষের বাঁচা অনেক বেশি প্রয়োজন।’
খন্দকার আনিছুর রহমান মাতাব্বর বলেন, ‘টাঙ্গাইল শহরের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া এ নদটি যমুনার শাখা হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক দশকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রভাবশালী মহলের দখলের কারণে নদটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে শহরের ময়লা-আবর্জনা সরাসরি নদে ফেলার কারণে এটি এখন মশার প্রজননকেন্দ্র এবং দুর্গন্ধের উৎসে পরিণত হয়েছে।’ টাঙ্গাইল জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য বলেন, ‘পানি আইন-২০১৩ অনুসরণ করে নদ উদ্ধারকাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। লৌহজং নদের ক্ষেত্রে এ আইন প্রয়োগ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদের সীমানা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে নদের আদিরূপ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। নদের পশ্চিমপাশে কিছু অংশে দখলদারদের উচ্ছেদ করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি অংশ উদ্ধারে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।’