ঈদ আসে, ঈদ যায়। ট্রেনযাত্রায় কমে না ভোগান্তি। বছরের পর বছর কাটছে একই নিয়মে। অন্যদিকে প্রতি বছর বাড়ছে যাত্রীর চাপ, ঘটছে দুর্ঘটনা। গত কয়েক বছরের এই দুর্ভোগ কমাতে এবারও নেই পদক্ষেপ। গতানুগতিক প্রস্তুতিতে আয়োজন হচ্ছে আসন্ন ঈদযাত্রা।
ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে আগের মতোই যাত্রী এবং পশু পরিবহনে ট্রেন বাড়াচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একাধিক সিদ্ধান্ত। আজ মঙ্গলবার হবে চূড়ান্ত বৈঠক। বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিতব্য সভায় নেতৃত্ব দেবেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
যাত্রী পরিবহন বাড়ানোর সক্ষমতা নেই রেলের। জনবল, লোকোমোটিভ, লোকোমাস্টার, কোচ— সব কিছুরই সংকট। চাইলেও হুট করে আসন বাড়ানো সম্ভব নয়
সাধারণত আন্তঃনগর ট্রেন চলে ৫২ জোড়া। ঈদে সব ধরনের ট্রেন মিলিয়ে ২৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার আসনে যাত্রী পরিবহন হয়। কয়েক বছর আগেও এই সংখ্যা ঘুরপাক খেত ২৪ থেকে ২৬ হাজারের মধ্যে। এই আসনের সঙ্গে বৈধভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার (স্ট্যান্ডিং) টিকিট বিক্রি হয় আরও ২৫ শতাংশ। এতে পরিবহন করা যায় অতিরিক্ত ৮ হাজার যাত্রী। চাহিদা লক্ষাধিক হলেও এর বেশি যাত্রী পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না রেলের।
এই দুরবস্থার কারণ জানতে চাইলে রেলের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন জানালেন, যাত্রী পরিবহন বাড়ানোর সক্ষমতা নেই রেলের। জনবল, লোকোমোটিভ, লোকোমাস্টার, কোচ— সব কিছুরই সংকট। চাইলেও হুট করে আসন বাড়ানো সম্ভব নয়।
এমন বাস্তবতায় গত বৃহস্পতিবার ঈদযাত্রার প্রস্তুতিমূলক সভা করেন রেলের মহাপরিচালক নিজেই। আগামী ২৮ মে ঈদ হবে— এমনটা ধরেই নেওয়া হচ্ছে প্রস্তুতি।
রেলের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদে যাত্রীবাহী বিশেষ ট্রেন চলবে ১০টি। সেইসঙ্গে থাকছে দুটি পশুবাহী বিশেষ ট্রেন। যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত চলবে তিস্তা স্পেশাল এবং চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের পথে চাঁদপুর স্পেশাল। এ দুই জোড়া অর্থাৎ চারটি ট্রেন আগামী ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পরের তিন দিন চলাচল করবে।
আর জয়দেবপুর থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত পার্বতীপুর স্পেশাল ট্রেনটি ঈদের আগে ২৪ থেকে ২৬ মে তিন দিন এবং ঈদের পর তিন দিন চলবে। অন্য চারটি বিশেষ ট্রেন চলবে শুধু ঈদের দিন। এগুলো ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে যাবে শোলাকিয়ার ঈদগাহের উদ্দেশে।
পশু পরিবহনে বিশেষ ট্রেন দুটি চলবে ২২ ও ২৩ মে। ট্রেন দুটি দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে ঢাকা (কমলাপুর), তেজগাঁও এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে আসবে।
বরাবরের মতো এবারও ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে শুধু অনলাইনে। কাউন্টারগুলো বন্ধ থাকবে। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদযাত্রা শুরু হতে পারে ২৩ মে। তাই ঢাকা থেকে যাওয়ার টিকিট মিলবে ১৩ মে থেকে। ধারাবাহিকভাবে ২৭ মে’র টিকিট পাওয়া যাবে ১৭ মে। আর ফিরতি পথের টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে। সর্বশেষ ৪ এপ্রিলের টিকিট ছাড়বে ২৫ মে।
এবারও সার্ভারে চাপ কমাতে একসঙ্গে ছাড়া হবে না সব টিকিট। সকাল ৮টা থেকে পাওয়া যাবে পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট। দুপুর ২টা থেকে মিলবে পূর্বাঞ্চলের। একজন যাত্রী দিনে একবারই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন, সর্বোচ্চ চারটি। তবে ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকছে না অগ্রিম সংগ্রহ করা এসব টিকিট।
‘ঈদ এলেই যেন আমাদের প্রস্তুতির কথা মনে পড়ে, তা ছাড়া কারও কোনো হুঁশ থাকে না’— এভাবেই রেলের ঈদযাত্রা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান।
তার ভাবনায়, ‘বিনিয়োগের ধরনে ভুল হয়েছে। ছোট ছোট বিষয় বাদ দিয়ে শুধু বড় বড় অবকাঠামোয় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়নি। নতুন লাইন হয়েছে, কিন্তু ট্রেন বাড়েনি। আর যাত্রী যদি টিকিটই না পান তাহলে হাজার কোটি টাকার রেললাইন দিয়ে কী হবে।’