Image description
খুনি লাশ গুমের সরঞ্জাম অর্ডার করে অনলাইনে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যার পরতে পরতে লোমহর্ষক সব ঘটনা লুকিয়ে আছে। তারা নিখোঁজ হওয়ার রাতে অনলাইনে লাশ গুমের বিভিন্ন সরঞ্জাম অর্ডার করেছিল সন্দেহভাজন খুনি আবুঘরবেহ। আদালতে তদন্তকারীরা এই তথ্য দিয়েছেন। মঙ্গলবার হিলসবরো কাউন্টির আদালতে আসামির জামিন শুনানি হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে করাগারে পাঠিয়েছেন। এদিন লিমন ও বৃষ্টির বন্ধুদের একটি দল আদালতে উপস্থিত হয়ে হত্যার বিচার চেয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, লিমনের লাশ ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আদালতে তদন্তকারীরা জানান, দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিভিএস নামে ওষুধ ও খুচরা পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে আবুঘরবেহের মোবাইল ফোন থেকে আবর্জনা রাখার ব্যাগ, ঘর পরিষ্কার করার লাইজল, দুর্গন্ধনাশক ফেব্রিজসহ আরও কিছু পণ্যের অর্ডার করা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাদের অ্যাপার্টমেন্টের দরজায় পণ্যগুলো পৌঁছে দেয় সরবরাহ সেবা প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশ। ধারণা করা হচ্ছে, লাশ গুমের জন্যই এসব পণ্য অর্ডার করেছিলেন তিনি। তারা আরও জানান, লিমন ও আবুঘরবেহের অন্য একজন রুমমেট দেখতে পান, আবুঘরবেহ একটি চাকাওয়ালা ট্রলি ব্যবহার করে তার ঘর থেকে কিছু কার্ডবোর্ডের বাক্স অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ময়লা ফেলার স্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

তদন্তকারীরা একটি ময়লা ফেলার স্থানে তল্লাশি চালান। সেখানে তারা রক্তমাখা একটি কালো রঙের ফ্লোর ম্যাট, বৃষ্টির মোবাইল ফোনের কাভার এবং লিমনের মানিব্যাগ, চশমা ও রক্তমাখা পোশাক খুঁজে পান।

মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানার হলফনামায় বলা হয়েছে, আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটির কাছে একটি বিষয় জানতে চেয়েছিলেন, তা হলো ‘হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে কি গাড়িতে তল্লাশি করা হয়?’ ১৭ এপ্রিল রাত ১টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে দুইবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুতে গিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার ওই সেতুতে তল্লাশি চালিয়ে কালো রঙের একটি আবর্জনার ব্যাগে লিমনের লাশ খুঁজে পান গোয়েন্দারা।

হলফনামায় বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টিকে শেষ কবে দেখেছিলেন, সে বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দেন আবুঘরবেহ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আবুঘরবেহের বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ জড়ানো ছিল। তিনি দাবি করেন যে পেঁয়াজ কাটার সময় এই ক্ষত হয়েছে। তবে নথিপত্র অনুযায়ী, গোয়েন্দারা আবুঘরবেহের বাঁ হাতের ওপরের অংশে একটি টাটকা ক্ষত এবং দুই পায়ে আরও কিছু কাটার দাগ লক্ষ করেন।

আবুঘরবেহর জামিন নামঞ্জুর : মঙ্গলবার হিশাম আবুঘরবেহর জামিন শুনানি হয়। এদিন আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। শুনানিতে আদালতকক্ষে উপস্থিত হন লিমন ও বৃষ্টির বন্ধুরা। তাদের বেশির ভাগই সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সহপাঠী। এ সময় আবীর আল হাসিব সৌরভ নামে একজন বলেন, আমরা বাংলাদেশিরা এখানে একটি পরিবারের মতো বসবাস করি। আমরা একসঙ্গে খাবার খাই, একসঙ্গে বেড়াতে যাই, ঘুরতে যাই। সালমান সাদিক শুভ বলেন, আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা তাদের হত্যা মামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ সময় স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, আমি ভাবতেও পারিনি, তাদের এত বন্ধু আসবেন। তিনি বলেন, অন্যান্য শিক্ষার্থী ও বন্ধু ওই দুজনকে আপন করে নিচ্ছেন, যাদের তারা হারিয়েছেন এবং তাদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাইছেন। এটা জানতে পারা সত্যিই দারুণ।

প্রসিকিউটররা আশা করেন, ৭ মে তারা মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন। দোষী সাব্যস্ত হলে আবুঘরবেহর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

লিমনের লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে : ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, লিমনের লাশ মঙ্গলবার টাম্পা ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এর আগে মায়ামির বাংলাদেশ কনসুলেট জামিল আহমেদ লিমনের পরিবারের সম্মতি নিয়েছে। তার লাশ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, এটি শেষ হতে আরও দু-একদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।