Image description

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামে অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের পাশাপাশি খাদ্য ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ ধীরগতিতে চলছে। এতে দেশে দেশে মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আফ্রিকাসহ কোনো কোনো অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো হরমুজে মানবিক করিডোর চালুর দাবি তুলেছে। গতকাল বুধবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) জরুরি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট বব কিচেন অবিলম্বে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে মানবিক করিডোর খুলতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, অন্ততপক্ষে মানবিক কেন্দ্রগুলোতে আটকে থাকা খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ পুনরায় চালু করা জরুরি। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বের প্রায় ৪৫ শতাংশ বীজ ও সার হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো থেকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধপত্র বাইরে পৌঁছাচ্ছে না। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় আইআরসি দুবাইতে আটকে থাকা ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার মূল্যের ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারেনি, যেগুলো সুদানের ২০ হাজার মানুষকে দেওয়ার কথা ছিল। নাইজেরিয়া ও ইথিওপিয়ায় আইআরসির স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলোতে জেনারেটরের ব্যবহার সীমিত করতে হচ্ছে। আফ্রিকার অনেক দেশে সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের পরিচালক সেসিল টেরাজ বলেন, হরমুজ সংকটের কারণে তেল, খাদ্য, সার ও ওষুধের বৈশ্বিক সরবরাহ কমে গেছে; বেড়ে গেছে দাম। জ্বালানির প্রধান উৎস তেলের বর্তমান দাম ব্যারেলপ্রতি এখন প্রায় ১১১ ডলার।

বড় সাহায্য সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তহবিল কর্তনের ধাক্কা সামলাতে পারছে না। তারা ভারত ও দুবাইয়ের কেন্দ্রগুলো থেকে আফ্রিকার অভাবী জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য, ওষুধসহ মানবিক পণ্য রপ্তানি করে থাকে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাটির পরিবহন খরচ, জ্বালানি, খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী বাবদ প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার ব্যয় হচ্ছে। সংস্থাটির গ্লোবাল সাপ্লাইয়ের পরিচালক উইলেম জুইডেমা বলেন, এই পরিমাণ অর্থ প্রায় ৪০ হাজার শিশুর এক মাসের সাহায্যের সমান। এভাবে চলতে থাকলে দাতব্য সংস্থাটির অতিরিক্ত ২৭ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) মতে, চলমান সংকট অব্যাহত থাকলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা ৩১৮ মিলিয়ন মানুষের সারিতে যোগ হবে আরও ৪৫ মিলিয়ন ক্ষুধার্ত মানুষ। 

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সাল থেকে বৈদেশিক সহায়তা ৫৭ শতাংশ কমিয়েছে। গত বছর যুক্তরাজ্যের সাহায্য ২০০৮ সালের পর সর্বনিম্ন ছিল। নরওয়ে, জার্মানি ও ফ্রান্স– সবাই তাদের সাহায্য বাজেট ব্যাপকভাবে কমিয়েছে।

সোমালিয়ায় প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানির খরচ তিন গুণ বেড়ে গেছে। মিয়ানমারে নিত্যপণ্যের দাম ১৯ শতাংশ বেড়েছে। আফগানিস্তানে খাদ্য পাঠানোর খরচ তিন গুণ বেড়ে গেছে। ডব্লিউএফপি আগামী মাসগুলোতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবে না। সুদান, পাকিস্তান, কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ ও ইথিওপিয়ার কৃষি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।