Image description
আর্থিক সংকটে ডিএসসিসি । অর্ধেক চাকায় খোঁড়াচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা । বছরে চাকা দরকার ৪,৪০০টি, চলছে । অর্ধেক দিয়ে ঠিকাদারকে অর্থ দেওয়া যাবে কি না—তা নিয়েও সংশয় ।

ঢাকায় গত এক সপ্তাহ ধরেই ছিল তীব্র গরম। দিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করছিল ৩২ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। গরমে এমন অবস্থা হয়েছিল যে, ভালো সবজি বা খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল বাইরে থাকলে। সেখানে যদি প্রায় এক হাজার টন বর্জ্য ভাগাড়ে না গিয়ে শহরেই পড়ে থাকে, তাহলে কেমন দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

এ ঘটনাটিই রোজ ঘটছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি)। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত গাড়িগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে না পারায় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোয় (এসটিএস) জমে থাকছে বর্জ্য। কখনো সেই বর্জ্য এসটিএস উপচে চলে আসছে সড়কে। আর যদি সামান্য বৃষ্টিও হয় তাহলে সহজেই তা ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। ময়লার দুর্গন্ধে আশপাশ দিয়ে হাঁটা হয় দায়, বাড়তি চাপ পড়ে ফুসফুসে।

ল্যান্ডফিলে যাওয়ার সময় লোহালক্কড় আর ভারী ধাতুর কারণে নতুন চাকাও হয়ে যায় নষ্ট। ফলে পরদিন থেকে সেই গাড়িগুলোও বসে থাকে। চাকার অভাবে রোজ বর্জ্য পরিবহন করা যায় তিন ভাগের দুই ভাগ। এক ভাগই থেকে যায় এসটিএসে

সংকটের উৎস খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, টাকার অভাবে বর্জ্য পরিবহনের গাড়িগুলোর চাকা কিনতে পারছে না ডিএসসিসি। যার ফলে বর্জ্য আনা-নেওয়ার কাজে পড়েছে ভাটা। যার জের টানছে এসটিএসগুলো।

ডিএসসিসির গাড়ির সংখ্যা ৬৯৭টি। এর মধ্যে ১৩০টি কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ। বাকি ৫৬৭টি ব্যবহার করা হয় বর্জ্য পরিবহনে। এই গাড়িগুলোর মধ্যে প্রতিদিন অন্তত ১৫০-২০০ গাড়ি অচল থাকে চাকাসহ নানা সমস্যার কারণে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলে বর্জ্য পরিবহনে।

নির্ধারিত অঞ্চলের ডাস্টবিন থেকে এসটিএস হয়ে ল্যান্ডফিল পর্যন্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা সচল রাখতে প্রতি বছর ঢাকা দক্ষিণের চাকা দরকার হয় ৪ হাজার ৪০০টি। কিন্তু এখন সচল অর্ধেক চাকা। স্বাভাবিকভাবেই ছেদ পড়েছে কাজে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পুরো প্রক্রিয়াটি। আর এসটিএসে থেকে যাওয়া বর্জ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে দুর্গন্ধ।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে কিছুটা অসহায়ত্বই প্রকাশ করলেন ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার।

আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘ল্যান্ডফিলে যাওয়ার সময় লোহালক্কড় আর ভারী ধাতুর কারণে নতুন চাকাও হয়ে যায় নষ্ট। ফলে পরদিন থেকে সেই গাড়িগুলোও বসে থাকে। চাকার অভাবে রোজ বর্জ্য পরিবহন করা যায় তিন ভাগের দুই ভাগ। এক ভাগই থেকে যায় এসটিএসে।’

তার কাছ থেকেই জানা গেল, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রতিদিন বর্জ্য হয় গড়ে ৩ হাজার ২০০ টন। পরিবহন সংকটের কারণে ল্যান্ডফিলে নেওয়া যায় ২ হাজার ৩৫০ টনের মতো। বাকি প্রায় এক হাজার টন পড়ে থাকে এসটিএসগুলোয়।
এই দুর্গন্ধের বাতাস লেগেছে ডিএসসিসির কর্তাব্যক্তিদের নাকেও। আর তাই তো তড়িঘড়ি করে শুরু হয়েছে চাকা কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া। সে হিসেবে, দুই সপ্তাহের মধ্যেই সংস্থাটির হাতে পৌঁছে যাওয়ার কথা চাকা।

অবশ্য শেষ পর্যন্ত কতটি চাকা ডিএসসিসির বহরে যুক্ত হবে, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৯৬৪টি চাকা কেনার কথা থাকলেও আদৌ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পুরো টাকা দেওয়া যাবে কি না—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্বয়ং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা। কারণ, সেই পুরনো আর্থিক সংকট।

সাবেক প্রশাসকদের অতিরিক্ত ওয়ার্ক অর্ডার ও আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে গত মার্চেই কোষাগারে অর্থ না থাকার কথা জানিয়েছিল ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সে সময় সিটি করপোরেশনের কাজ সচল রাখতে সরকারের কাছে বিশেষ বরাদ্দও চান দুই সিটির দুই প্রশাসক।