Image description

জাপানের সঙ্গে সম্পাদিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) মডেল অনুসরণ করে এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বে ৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার। এর মধ্যে মাত্র দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে বাংলাদেশে। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে সরকার আরও বেশি কোরিয়ান বিনিয়োগ আনতে চাইছে। শুধু তাই নয়, এলডিসি উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে যে ক্ষতি হবে, এ চুক্তির মধ্য দিয়ে তার কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের আগস্টে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষর হতে পারে। তার আগে চুক্তির তৃতীয় ধাপের আলোচনা চলছে দেশটির রাজধানী সিউলে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ওই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্বিপক্ষীয় এ চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা, রুলস অব অরিজিন বা উৎপত্তিস্থল বিধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ ১৩ খাতে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনা ও রপ্তানি সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশে ১৫০টির বেশি কোরিয়ান কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দক্ষিণ কোরিয়া এখন বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) ২০২৫ সালের বিশ্ববিনিয়োগ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরিয়ার বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; যা দেশটিকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিনিয়োগকারী দেশের কাতারে স্থান দিয়েছে। বাংলাদেশেও একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠাসহ দক্ষিণ কোরিয়ার শক্তিশালী বিনিয়োগ রয়েছে। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে দেশটির ৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈশ্বিক বিনিয়োগের একটি অংশ বাংলাদেশে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এ চুক্তির আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে এলডিসি উত্তরণের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া। সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০৮ সাল থেকে এশিয়া-প্যাসিফিক ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (আপটা) এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ব্যবস্থার অধীনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ৯৫ শতাংশ (৪ হাজারের বেশি) পণ্যে শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত বাজারসুবিধা ভোগ করে আসছে। এলডিসি উত্তরণের পর এ সুবিধা আর পাবে না বাংলাদেশ। তবে দুই দেশের মধ্যে সেপা চুক্তি সম্পন্ন হলে তখন শতভাগ পণ্যে বাজারসুবিধা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ইপিএ স্বাক্ষর হয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো উন্নত দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করল। এ চুক্তির ফলে ৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যা এলডিসি উত্তরণের পরও রপ্তানিসক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেহেতু জাপানের সঙ্গে ইতোমধ্যে ইপিএ স্বাক্ষর হয়েছে, তাই একটি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে একটি ভালো উদাহরণ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সেপা স্বাক্ষর করা কঠিন হবে না, কারণ দেশটি এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’