Image description

ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে নারী সেজে সে তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলত। নানা কৌশলে দেখা করার জন্য নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো এসব নারীকে। এক পর্যায়ে অভিনব কৌশলে তাদের জোরপূর্বক ধর্ষণ করত। ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করা হতো আগে থেকে সেট করে রাখা গোপন ক্যামেরায়। পরবর্তীতে এসব ভিডিও দেখিয়ে চলত দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেলিং।

শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং স্মার্ট ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তথ্য হাতিয়ে নিত ভয়ংকর সেই সিরিয়াল রেপিস্ট (ধর্ষক)। তবে এবার আর তার শেষ রক্ষা হয়নি। রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামে এই সিরিয়াল রেপিস্টকে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই সে দুই মাসে অন্তত ১৩ তরুণীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি। তিনি বলেন, রাব্বির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে একই ধরনের ১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাদের অধিকাংশই মিরপুর এলাকার বাসিন্দা।

গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিসি ওয়ারী। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রাব্বি প্রথমে নারী পরিচয়ে ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সি তরুণীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করত। পরে বিভিন্ন অজুহাতে দেখা

করার কথা বলে নির্জন স্থানে ডেকে নিত। কখনো উপহার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলত, আবার কখনো নিজের নারী পরিচয়ের আত্মীয় দাবি করে ভুক্তভোগীদের নিয়ে যেত নির্জন বাসায়। সেখানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে শুরু করত ব্ল্যাকমেইল। ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি বলেন, অভিযুক্ত প্রথমে কোনো এক তরুণীকে ব্ল্যাকমেল করে তার মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিত। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই তরুণীর বন্ধু তালিকায় থাকা অন্যদের সঙ্গে নারী পরিচয়ে যোগাযোগ করে নতুন টার্গেট নির্ধারণ করত। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া ছাত্রীদের বেশি টার্গেট করা হতো। পুলিশের ভাষ্য, মানসম্মানের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী প্রকৃত ঘটনা গোপন রেখে শুধু মোবাইল হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এসব জিডির সূত্র ধরেই ধাপে ধাপে ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা ও অন্তত চারটি জিডির তথ্য পাওয়া গেছে।