‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও আলোচনায় বসতে যাচ্ছে’—এমন আশার বার্তার মধ্যেও বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিগিগরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কবে থেকে খোলা হবে, সেই বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। যদিও ফের ইরানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজে মার্কিন অবরোধ চলমান থাকায় এবার ইরান লোহিতসাগরসহ তিনটি নৌপথ অবরোধের হুমকি দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা ব্যর্থ হবে।
মার্কিন অবরোধেও কি জাহাজ চলছে?
ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার প্রথম পূর্ণ দিন এর কার্যকারিতা অনেকটাই অস্পষ্ট থেকে গেছে। বিবিসির নিরাপত্তা প্রতিবেদক ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনার এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রস্তুতির ঘাটতি এবং ট্রান্সপন্ডার হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন। বিবিসি ভেরিফাই বিশ্লেষণ করা জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কমপক্ষে চারটি ইরান-সম্পৃক্ত জাহাজ (যার মধ্যে দুটি ইরানি বন্দর পরিদর্শন করেছিল) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে অবরোধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, এমন আরো তিনটি জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে। তিনি পৃষ্ঠা ১৫ কলাম ৩
হরমুজে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের
প্রথম পৃষ্ঠার পর
আরো বলেন, অবরোধ কার্যকর হওয়ার ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সাগরপথে ইরানে আসা-যাওয়া সব অর্থনৈতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নির্দেশনা মেনে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ দিক পরিবর্তন করে আবার একটি ইরানি বন্দরে ফিরে গেছে। তবে বিবিসি ভেরিফাই বিশ্লেষণ করা জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য দেখায়, অবরোধ আরোপের পর প্রণালি অতিক্রম করার পর কমপক্ষে দুটি ইরান-সম্পৃক্ত জাহাজও তাদের দিক পরিবর্তন করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো সেনা
পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনীর আরো হাজারো সদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জানা গেছে, সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানেন এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি এই খবর প্রকাশ করেছে।
তিন সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধার হুমকি দিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে পারস্য উপসাগর, লোহিতসাগর এবং ওমান সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। গতকাল বুধবার এই হুমকি দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়কারী সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির আলি আবদুল্লাহি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিতসাগর দিয়ে কোনো ধরনের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেবে না।’ মার্কিন নৌ-অবরোধ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সূচনা মন্তব্য করে ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থ রক্ষায় চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
‘ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য
করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে’
ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যে কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ এ ধরনের পদক্ষেপ কখনো মেনে নেবে না। গতকাল তেহরানে জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান এই কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, তেহরান যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা নয়, বরং সব সময়ই গঠনমূলক আলোচনার পক্ষে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এমন একটি সময় এসব কথা বলেছেন, যার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে।
নতি স্বীকার করবে না যুক্তরাজ্য
মঙ্গলবার রাতে এক সাক্ষাত্কারে ট্রাম্প বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, সেটির শর্তাবলি যে কোনো সময় পরিবর্তন করা হতে পারে। তার এমন মন্তব্যের পর গতকাল পার্লামেন্টে স্টারমার বলেন, ‘এটা আমাদের যুদ্ধ নয়। ভিন্ন পথ অবলম্বনের জন্য আমার ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং গত রাতে যা ঘটেছে, সেটাও সেই একই ধরনের চাপের অন্তর্ভুক্ত।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার সিদ্ধান্ত বদলাব না। আমি নতি স্বীকার করব না। এই যুদ্ধে যোগ দেওয়া আমাদের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল নয় এবং আমরা তা করব না। আমি আমার অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছি।’ —বিবিসি ও আলজাজিরা