দশ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে ফ্যাক্টরি-মাদ্রাসা বন্ধের হুমকি দেওয়া স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মীর মোজাম্মেল হোসেন মননকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক কাজী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলাধীন গফরগাঁও উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মীর মোজাম্মেল হোসেন মননকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হলো।
একই সাথে দলের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুইদিন পর থেকে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান রানার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে ফ্যাক্টরি ও মাদ্রাসা বন্ধ করা এবং ব্যক্তিগত হামলার হুমকি দেন তিনি।
এই ঘটনার জেরে গত ৬ মার্চ, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইসলামিয়া মসজিদ ও মাদ্রাসা, পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরির কর্মচারীদের জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা যোগে এলাকার সামনে এসে নুরুজ্জামান রানাকে ১০ লাখ টাকা দ্রুত দেওয়ার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার পরদিন ৭ মার্চ রাত ১০টায় আরিফুজ্জামান খান বাদী হয়ে ৫ জনের নামে ও অজ্ঞাত ২৫-৩০ জনকে অভিযুক্ত করে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সদ্য বহিস্কৃত গফরগাঁও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন বলেন, ‘আমাকে বহিষ্কার করার প্রেস রিলিজ দেখেছি। আমাকে বহিষ্কারের কারণ জানতে কেন্দ্রে যোগাযোগ করছি। বহিষ্কারের প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলন করব।