ক্রিকেট মাঠে দীর্ঘদিন ধরেই নিজের ছাপ রেখে চলেছেন সাকিব আল হাসান। এবার সেই গণ্ডি পেরিয়ে ভিন্ন এক অঙ্গনে নাম লেখাতে যাচ্ছেন তিনি। নতুন পরিচয়ে, নতুন ভূমিকায় সামনে আসছেন দেশের এই তারকা অলরাউন্ডার।
সাকিবের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম, নাম ‘বিয়ন্ড বাংলা’। যেখানে খবরের পাশাপাশি থাকবে বিশ্লেষণ, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনা।
নিজের এই নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য সম্পর্কে সাকিব দেশের সংবাদমাধ্যম বাংলানিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, খবর ঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায় না। আমি চাই, মানুষ যেন আসল বিষয়টা জানতে পারে। খবরের ভেতরের খবরটা সামনে আনা জরুরি।’
এই প্রকল্পে তিনি একা নন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও গীতিকবি জুলফিকার রাসেল, যিনি প্ল্যাটফর্মটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। সাংবাদিকতায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং গণমাধ্যম পরিচালনায় দক্ষতার কারণে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছে খুব সাধারণ একটি জায়গা থেকে। সাকিব জানান, ‘এটা অনেক দিনের পরিকল্পনা না। আড্ডা দিতে গিয়েই এমন একটা ভাবনা আসে, তারপর ধীরে ধীরে সেটাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’
জুলফিকার রাসেলও একই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আলাপচারিতা থেকেই এই পরিকল্পনার শুরু। আমাদের দুজনেরই আলাদা আলাদা অভিজ্ঞতা আছে, সেগুলো একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ দেখেছি।’
প্ল্যাটফর্মটিতে খেলাধুলা বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলেও নিশ্চিত করেছেন সাকিব। তার ভাষায়, ‘স্পোর্টস অবশ্যই থাকবে। খেলার নানা দিকই আমরা তুলে ধরতে চাই।’
ইতোমধ্যে ওয়েবসাইটের প্রাথমিক কাঠামো প্রায় প্রস্তুত। তবে সরাসরি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার আগে একটি পরীক্ষামূলক ধাপ রাখা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ‘টেস্ট রান’ শুরু হবে, যেখানে কনটেন্ট ও উপস্থাপনার বিভিন্ন দিক যাচাই করা হবে।
প্রাথমিকভাবে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের লক্ষ্য করে যাত্রা শুরু হলেও ভবিষ্যতে ইংরেজিতেও কনটেন্ট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তারা চান, ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পরিসরেও পৌঁছাতে।
তবে শুরুতেই বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চান না সাকিব। বাস্তবতার জায়গা থেকেই এগোতে চান তিনি। বলেন, ‘সবাই বলে আলাদা কিছু করবে। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, আমরা সত্য খবর তুলে ধরার চেষ্টা করব।’
অন্যদিকে জুলফিকার রাসেল মনে করেন, এই প্রকল্পে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনাও অনেক। বিশেষ করে ভৌগোলিক দূরত্বের বিষয়টি সামনে আসতে পারে, কারণ মূল কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাংলাদেশে থাকবে ব্যুরো অফিস।
সব মিলিয়ে, ক্রিকেটের বাইরের জগতে সাকিবের এই নতুন উদ্যোগকে অনেকেই ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। খেলাধুলার তারকা থেকে গণমাধ্যম উদ্যোক্তা, এই নতুন পরিচয়ে তিনি কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।