দিনে দিনে ছোট হয়ে আসছে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশ। একে একে নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো। ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী হচ্ছে না নতুন কোন বিমান সংস্থা। তাতে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা কেবলই কমছে। গেল কয়েক বছরে প্রায় ১৩টি বিদেশি এয়ারলাইন্স এখান থেকে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করেছে। এখন হাতে গোনা কয়েকটি এয়ার লাইন্সের ফ্লাইট চলাচল করছে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু রুটে। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে গত ৪০ দিনে আন্তর্জাতিক রুটে প্রায় ২৮১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর এই বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং উন্নয়ন-বিনিয়োগ থমকে যাওয়ায় চট্টগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের সংখ্যা কমছে। এই কারণে ফ্লাইটের সংখ্যাও কমছে। এই বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন অনেকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় অনেক আগে। তবে সময়ের সাথে সাথে যাত্রী ও ফ্লাইট বাড়লেও তাল মিলিয়ে সক্ষমতা বাড়েনি এই বিমানবন্দরের। এখনও যাত্রী ধারণক্ষমতার চেয়ে ছোট টার্মিনাল ভবন। আর একটি মাত্র টার্মিনালে চলছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের কার্যক্রম। ফলে একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট থাকলে যাত্রী সংকুলানে সমস্যা হয়। লাগেজ বেল্টের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়। ইমিগ্রেশনের জন্য চেক ইন কাউন্টারও অপ্রতুল। মাত্র দুটি বোর্ডিং ব্রিজ থাকায় অধিকাংশ সময় যাত্রীদের টার্মিনাল ভবন থেকে হেঁটেই বিমানে উঠতে হয়।
ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটররা বলছেন, আরো বেশি ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী করতে বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের সাবেক নির্বাহী সভাপতি এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর বলেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধা না থাকায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের বিদেশি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ছে না। বিমান সংস্থাগুলো একে একে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর টার্মিনাল ভবন, ভিআইপি লাউঞ্জ, রানওয়ে সম্প্রসারণ, পাঁচ তারকা হোটেলের মতো সুবিধা নিশ্চিত না হলে বিমান বন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো যাবে না। যদি করা হয় তাহলে বিদেশি ফ্লাইটগুলো নামার ক্ষেত্রে কোন জটিলতা থাকবে না। এই বিমান বন্দরে রি-ফুয়েলিংয়ের জন্য বাংকারিং সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। বিমান মেরামতের জন্য এখানে কোন হ্যাঙ্গার নেই। প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে না থাকায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে সময় বেশি লাগে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যে কেবল ভারতের কলকাতায় সীমাবদ্ধ এই বিমানবন্দরের আকাশ সেবার পরিসর।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া কিংবা ইউরোপ আমেরিকায় সরাসরি বা কোন কানেক্টিং ফ্লাইট না থাকায় এ অঞ্চলের যাত্রী ও প্রবাসীদের রাজধানীতে ছুটতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা জরিপ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এবং বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপুর্ণ গন্তব্যে যাত্রীদের ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান তাদের।
বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এম এ ছালাম বলেন, শাহ আমানত বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার দাবি দীর্ঘদিনের। চট্টগ্রামের চাহিদা এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কিছু বিমান সংস্থার ফ্লাইট শাহ আমানতে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এমিরেটসের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট পরিচালিত হয় ঢাকা থেকে। সেখান থেকে একটি ফ্লাইট বিশেষ করে কার্গো ফ্লাইট চট্টগ্রাম পাঠিয়ে দেয়া যেতে পারে। দিনে দিনে চট্টগ্রাম গুরুত্ব হারাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে ব্যবসা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উৎপাদনশীলতা বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আমদানিকারকদের আসা যাওয়া বাড়বে। সে ব্যাপারেও সরকারের নজর দেয়া উচিত।
চট্টগ্রাম থেকে যদি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রুটে কোনো ফ্লাইট চালু নেই। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রামের সাথে থাইল্যান্ডের সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হয়। থাই এয়ারওয়েজ, ফুকেট এয়ার সহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতো। কিন্তু পরবর্তীতে এসব বিমান সংস্থা চট্টগ্রাম থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে থাই স্মাইল এয়ার, কুয়েত এয়ার, মালিন্দো এয়ার, রোটানা এয়ার, হিমালয়ান এয়ার, রাস আল কাইমা (আরএকে) এয়ার, টাইগার এয়ারওয়েজ, সিল্ক এয়ার, ভারতভিত্তিক স্পাইসজেট বিমান, ওমান এয়ার, আলজাজিরা এয়ারওয়েজ, কুয়েতভিত্তিক এয়ারলাইনস জাজিরা এয়ারওয়েজ ইত্যাদি। বর্তমানে এ বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা, এয়ার অ্যারাবিয়া, সালাম এয়ার ও ফ্লাই দুবাই। এ বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বছরে প্রায় ২০ লাখ। বর্তমানে বিমানবন্দর দিয়ে ১০ লাখের মতো যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী সংখ্যা স্বাভাবিক থাকলেও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীর সংখ্যাও কমছে।
যাত্রী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করেছেন প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৬ জন যাত্রী। যদিও এর আগের বছর এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ লাখ ৮২ হাজার ৫৪০ জন। এমিরটেস, সউদি এয়ারলাইন্স, কুয়েত এয়ার সহ কয়েকটি বিমান সংস্থা চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত এরা চট্টগ্রাম আসেনি।
বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলেন, কিছু বিমান সংস্থা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিলেও নতুন কিছু সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিমানবন্দরের অবকাঠামো সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে। আশা করি ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়বে।
এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ২৮১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের শারজাহ দুবাই আবিধাবি থেকে চট্টগ্রামের ফ্লাইটগুলোর স্থবিরতা অপরিবর্তিত রয়েছে। যুদ্ধ বিরতির কথা বলা হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এসব রুটে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
পালানো উটপাখি ১০ মাইল দূরে ধরা
ইনকিলাব ডেস্ক
থ্যাইল্যন্ডে একটি ক্যাফে থেকে পালিয়ে যাওয়া উটপাখিকে প্রায় ১০ মাইল দূরে গিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, উটপাখিটি হঠাৎ করেই ক্যাফে এলাকা থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর কর্তৃপক্ষ সেটিকে দূরবর্তী একটি এলাকায় খুঁজে পায়।