Image description

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশ দূতাবাস জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। এসব স্থান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দূতাবাসের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, বৈরুতের বেশ কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে। সতর্কতামূলক তালিকায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— সাবরা শাতিলা, শাতিলা, বুর্জ আল বারাজনে, আল-রিহাব, ইজনাহ, বীর হাসান, হাইছুলুম, এয়ারপোর্ট রোড, আল-উযায়ি, আল-শিয়েহ, তারিক আল-জাদিদের উপকণ্ঠ, আল-তাইউনেহ, ফুর্ন আল-শুব্বাকের উপকণ্ঠ এবং বাদারো (আল-শিয়াহ এলাকার নিকটবর্তী)।

দূতাবাস থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং বার্তাটি দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে।

এ ছাড়া, পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলা, নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লেবাননে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে বৈরুতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের চলাফেরায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনসহ একগুচ্ছ বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লেবানন ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে উদ্ভূত আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চল হিসেবে পরিচিত বেকা ভ্যালি এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল বা দাহিয়ে এলাকাসহ এর আশপাশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের চলাফেরার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাতে বাড়ির বাইরে বের না হতে এবং যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ বা জনসমাগম এড়িয়ে চলতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো এলাকা সংঘর্ষে আক্রান্ত হলে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রবাসীদের সবসময় মূল পাসপোর্ট, ইকামা, বিএমইটি কার্ড অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সাথে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, টাকা-পয়সা ও মালামাল নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাদের পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের নিজেদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং কেউ বিপদে পড়লে দ্রুত দূতাবাসকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসীদের দূতাবাসের ফ্রন্ট ডেস্ক নম্বর (৭১২১৭১৩৯), হেল্প লাইন (৮১৭৪৪২০৭) এবং হট-লাইন (৭০৬৩৫২৭৮) নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।