মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। এক মাসের বেশি সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। ফলে জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর প্রভাবে দেশের জিডিপি ও রপ্তানি আয় কমার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর জন্য মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর চরম নির্ভরশীলতাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, জ্বালানি, রেমিট্যান্স এবং বাণিজ্য-সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলবে, যা সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে তারা দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের প্রতি সরকারকেই এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, জমি ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সবচেয়ে সহজলভ্য ও কার্যকর বিকল্পের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো এবং এর সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে উল্লেখযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখার মাধ্যমে সরকার দেশকে আমদানি করা অস্থিতিশীল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনতে পারে। করমুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম এবং সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণের মতো আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকিকে নবায়নযোগ্য খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের বাধাগুলো কমানো সম্ভব। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, স্থায়ী জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরিভিত্তিতে আমদানিভিত্তিক জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য আনতে হবে। স্বল্পমেয়াদে অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি এবং এলএনজি পেতে বহুজাতিক চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি রেশনিং (কিউআর-কোড ভিত্তিক ডিজিটাল ফুয়েল পাস) পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি শিল্প খাতের উৎপাদন শিফটগুলোকে অফ-পিক আওয়ারে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
এর ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সময়সীমা কমে আসবে। যার মাধ্যমে সংরক্ষিত সীমিত জ্বালানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে (যেমন : কৃষি এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত) সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি নির্ভরযোগ্য বেইসলোড বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে এবং অস্থিতিশীল এলএনজি বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে দেশের ভিতরে স্থলভাগ ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।