Image description

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা চলছে। পর্যাপ্ত মজুদ এবং বাংলাদেশে দাম বাড়ানো না হলেও দেশে জ্বালানি সংকটের বহুমুখী প্রভাব পড়েছে। গ্রামের সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে বড় শিল্পপতি-সবার চিন্তা জ্বালানি তেল নিয়ে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি পেতে রীতিমত যুদ্ধ চলছে এখন। বিভিন্ন দেশে দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এর মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকছে। তাই এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন। প্রতিদিনই দেশে আমদানিকৃত জ্বালানি আসছে। পাশাপাশি পাইপলাইনেও আছে। গতকালও চট্রগ্রাম বন্দরে চারটি এলপিজি ও এলএনজি নিয়ে জাহাজ ভিড়েছে। কিন্তু তারপরও সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও চাপ।

সূত্র মতে, জ্বালানি সংকটের প্রভাবে অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি, পরিবহনসহ অন্যান্য খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদামত জ্বালানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। আছে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ভয়াবহ চাপ আর উদ্বেগ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি দেশে গরম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ আরো বাড়ছে। চলমান এই বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতি এখন চাপের মুখে। চ্যালেঞ্জের মুখে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মূল্যস্ফীতি আরেক দফা উসকে যেতে পারে। তবে এর মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি ব্যবহারকারীদের মানসিক সমস্যাকে দায়ী করছেন। বিশেষ করে মন্ত্রণালয়ের সরবরাহ কার্যক্রম ও তদারকিতে সমস্যা দেখছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবেই ততই জ্বালানি সংকট বাড়বে। এতে নিত্য জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ অর্থনীতিতে চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী হওয়ার কোন বিকল্প নেই। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সরকারিভাবে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে পেট্রলপাম্পে দীর্ঘ সারি, গ্যাসের অভাবে সার কারখানা বন্ধ, শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত, কৃষি সেচে ডিজেল নিয়ে দুশ্চিন্তা, বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধি এবং রেকর্ড দামের পরও এলপিজি বাজারের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।

বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং
ইরান যুদ্ধের আঁচ লেগেছে দেশের বিদ্যুৎ খাতেও। মার্চ মাসজুড়ে আবহাওয়া মোটামুটি স্বস্তিদায়ক থাকলেও, চলতি মাসের শুরু থেকেই বাড়তে শুরু করেছে গরম ও বিদ্যুতের চাহিদা। জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই লোডশেডিং বাড়তে থাকে। বর্তমানে গড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

গ্যাসের ঘাটতি ও বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, চাহিদার সর্বোচ্চ সময় অর্থাৎ পিক আওয়ারে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। এর ফলে সারা দেশে মানুষকে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায়, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে ধারাবাহিক বৈঠক চলছে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত শনিবার বিদ্যুৎ ভবনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন। সেখানে সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং বাড়ার ব্যাপারেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত আমদানিনির্ভর গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক যেকোনো অস্থিরতায় দেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দিয়ে দিনে প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্যাস সরবরাহ যদি ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে আসে, তবে উৎপাদন সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে যেতে পারে। পিডিবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলেও এপ্রিলে-মে মাসে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। আর এর বিপরীতে মোট উৎপাদন হতে পারে মাত্র ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের ওপরে। এরপরও মাত্র ১৫ হাজার মেগাওয়াট চাহিদাতেই লোডশেডিং শুরু হওয়ার কারণ জানতে চাইলে পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, আদানির একটি ইউনিট মেরামতের জন্য গত বুধবার থেকে বন্ধ থাকায় ৬৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে কম আসছে। পাশাপাশি গ্যাস সংকটে চার হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ আছে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো কম চালানো হচ্ছে। তাই দেশের অনেক এলাকায় দু-একবার লোডশেডিং হচ্ছে।

যদিও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এরফানুল হক বলেন, এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। মার্চে দেওয়া হয়েছে ৮২-৮৩ কোটি ঘনফুট। এপ্রিলে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯৩ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘœ ঘটলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এপ্রিল-মে মাসে যে ৯০০ থেকে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার কথা ছিল, আমরা হয়তো তার পুরোটাই পাব না। তবে খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে কেনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ঠিক সময়ে দেশে এসে পৌঁছালে ঘাটতির কিছুটা হয়তো পূরণ করা সম্ভব।

বিদ্যুতের চাহিদা আবহাওয়ার ওপরও নির্ভর করবে বলে মনে করেন পিডিবির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকলে বিদ্যুৎব্যবস্থায় হয়তো অতটা চাপ পড়বে না।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস বলছে, এপ্রিলে দেশে একাধিক তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এতে বিদ্যুতের চাহিদা আরো বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সরকারের প্রাক্কলন অনুসারে চলতি মাসে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা হবে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, গ্যাস থেকে আসবে ছয় হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট, কয়লা থেকে পাঁচ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট, ফার্নেস অয়েল থেকে তিন হাজার ২১৩ মেগাওয়াট, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪০ মেগাওয়াট, বায়ু ও সৌর থেকে ২০ মেগাওয়াট, আদানি থেকে এক হাজার ৪৩৬ মেগাওয়াট এবং ভারত সরকার থেকে এক হাজার মেগাওয়াট আমদানি করা হবে।

ছয় হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে দিনে ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চেয়েছে পিডিবি। কিন্তু পেট্রোবাংলা দিনে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দিতে সম্মত হয়েছে। ফলে এ মাসজুড়ে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতেই হবে। যদিও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সরকার ইতোমধ্যে সাশ্রয়ী কর্মসূচি শুরু করেছে। চলতি বছর বিদ্যুতের দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা হিসাব করে সেখান থেকে তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার কথা ভাবছে সরকার। এ জন্য আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালানো, সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কারখানায় উৎপাদন ব্যহত, ব্যয় বাড়ছে
বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সময় জ্বালানি তেলের অভাবে জেনারেটর চলছে না শিল্পকারখনায়। এতে করে অনেক সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। আবার লোডশেডিং বাড়লে জ্বালানি তেলের জন্য উৎপাদন ব্যয় বাড়বে।

পণ্য পরিবহন ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী
দেশজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে বিশৃঙ্খলার প্রভাবে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে পণ্য পরিবহন ব্যয়। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া বিভিন্ন রুটে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, কোথাও কোথাও তা কয়েক হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে নিত্যপণ্য থেকে শিল্পপণ্য-সব খাতেই চাপ তৈরি হয়েছে।

পরিবহন সংকটের কারণে অনেক ব্যবসায়ী নিজস্ব গাড়ি থাকলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না। ভাড়া গাড়ির ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ভাড়ার ঊর্ধ্বগতিই সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, এতে রফতানিমুখী পণ্যের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে, কৃষি ও পোলট্রি খাতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আলু, সবজি ও মুরগি পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ও দামের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতে অস্থিরতা আরও বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের সার্বিক বাজার ব্যবস্থায়।

বিপর্যস্ত গণপরিবহন, চরম ভোগান্তিতে যাত্রী : ডিজেল সরবরাহে ঘাটতির কারণে সড়কে বাস, মিনিবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক রুটে বাস চলাচল ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে গণপরিবহন খাতে অচলাবস্থা আরো বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
চালক ও গাড়ির মালিকরা বলছেন, তেল নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেক সময় ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল মিলছে না। আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে প্রয়োজন না হলে গাড়ি বের করছেন না। এমনকি জরুরি কাজেও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার এড়িয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাবে ঢাকায় তিন লাখ ৫৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রাইভেটকার রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখেযাগ্য সংক্যক গাড়ি এখন নিয়মিত রাস্তায় নামছে না। রাজধানীর নিত্য পরিচিত যানজট কমে গেছে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ৫৪ হাজার যানবাহন চলাচল করেছে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় চার হাজার কম। সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করছে। পাশাপাশি সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ কমানো হয়েছে।