‘তোমারই নয়ন মাঝে/ চাহিতে পারিনি কিছু/ চাহিয়া মরি যে লাজে/ নিজেরে হারায়ে খুঁজি’ (সলিল চৌধুরী)। মাধুুরী চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে জনপ্রিয় এই গানের মতোই যেন ক্ষমতাসীন বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর দীর্ঘ নি:শ্বাস ধ্বনিত হচ্ছে। রাজপথে লড়াকু বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে কি নিজেকে হারাতে বসেছে? আর দলের নির্যাতিত নেতাদের বঞ্ছিত করে শরীক দলের যাদের মন্ত্রী-এমপি করেছেন তারা ক্ষমতার ভোগবিলাসে মত্ত!
১৮ বছর ছাত্রলীগ-যুবলীগ-পুলিশের যাতনা সহ্য করে এবং আন্দোলনের কর্মসূচি দিলেই পুলিশী জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও ঢাকার রাজপথে যে মুখগুলো দেখা যেতো ক্ষমতাসীন বিএনপিতে এখন সে মুখগুলোর প্রতিচ্ছবি খুব কমই দেখা যাচ্ছে। মসনদের চেয়ারগুলোতে দেশ বিদেশ থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতাদের আধিক্য, শরীক দলের ঢাল তড়োয়াল বিহীন নেতাদের আধিক্য এবং ক্ষমতার পালাবদলে গিরগিটির মতো রং বদল করা মিডিয়ার হাকডাকে জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্ষমতার চোরাবালিতে ডুবতে বসেছে? নির্বাচনে ভুমিধ্বস বিজয়ের পর সরকার গঠনের দুই মাস হতে না হতেই দলটি যেন খাবিখাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বেহাল অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের কার্যকর পদক্ষেপ নেই; বেকারত্ব দূরীকরণ, কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসণে অব্যবস্থাপনা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সুরাহা এসব নিয়ে নেই কোনো সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনা। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকার উপক্রম। সে সংকটের সুরাহা না করে উল্টো অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ১৩৩ অধ্যাদেশ, সংবিধান সংশোধন, গণভোট ইস্যু নিয়ে চলছে বাহাস। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদে গত কয়েকদিন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে বাক বিতন্ডা হয়েছে সেগুলোতে জনগণের সামান্যতম স্বার্থ সংরিক্ষত নেই। বরং ক্ষমতার পাল্লা নিজেদের দিকে ভারি করতে সরকারি দল ও বিরোধী দল মহাপ্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা যেমন নিজ দলের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে মহাব্যস্ত তেমনি বিরোধী দলও নিজেদের দলীয় স্বার্থে দেশী-বিদেশী কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাতাস গরম করছে। নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ দেড় মাস যেতে না যেতেই রাজপথে আন্দোলনের হুংকার দিচ্ছে বিরোধী দল। দূর থেকে তাদের ইন্ধন দিচ্ছে চিহ্নিত কিছু গণমাধ্যম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, কিছু এনজিও।
এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তো কোন ‘ডিপ স্টেট’ ২০২৯ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে চেয়েছিল ড. ইউনূস সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার বোকামীর আফসোস করছেন। গতকাল আসিফ মাহমুদ বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘গণভোটের রায় যদি আপনারা (সরকার) না মানেন, তাহলে এই সরকারকে আমরা সেদিন থেকেই অবৈধ সরকার বলা শুরু করব। আমরা এটার জন্য সময় নেব না। আপনারা যেমন আমাদের সব অর্জন ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য সময় নিচ্ছেন না, আমরাও কিন্তু সেটার জন্য সময় নেব না।’ শহীদুল আলম নামের একজন তো বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের মতো মহাক্ষমতাশালী দলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছি; তারেক রহমানের বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বেশি সময় লাগবে না’। সরকার গঠনের দেড় মাসের মাথায় বিএনপিকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করার হুমকিতে মসনদের চেয়ারে উড়ে এসে জুড়ে বসা ব্যাক্তিদের ভ্রুক্ষেপ নেই। দীর্ঘ দেড় যুগ রাজপথে জীবনবাজী রেখে আন্দোলন করা মুখগুলো পিছনে পড়ে যাওয়ায় আগামীতে বিপদের দিনে ক্ষমতাসীন বিএনপির পক্ষে কতটা দাঁড়াবে তা বলা যাচ্ছে না। জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ও রেহানা যখন হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যান সে দৃশ্য দূর থেকে উপভোগ করেছেন ঝানু রাজনীতিক তোফায়ের আহমদসহ দলটির অনেক নেতা। ক্ষমতাসীন দল নিজেরাই নিজেদের সংকট সৃষ্টি করায় তাদের ডিফেন্স করতে পারছে না দলটির শুভাখাঙ্কিরা।
সংসদে বিতর্ক ও সরকারের অবস্থা এবং প্রশাসনের চিত্র ব্যাখ্যা করে সাবেক সচিব বদিউর রহমান বলেছেন, ‘বড় আকৃতির মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ থেকে ১২ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এলাহিকা- এটা ভাল নয়। প্রশাসনে যে ভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে সেটা খারাপ লক্ষন। রাজনীতিতে যে সংকটের বাতাস উঠেছে আগামী ৪ থেকে ৬ মাস পর বোঝা যাবে সংকট পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। এক সময় তারেক রহমান নিজেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী পদ থেকে ড. খলিলুর রহমানের পদত্যাগ চেয়েছিলেন। মার্কিনীদের প্রেসক্রিপশনে সেই খলিল ল-নে তারেক রহমানের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে তারেক রহমানের মুখে ললিপপ দেয়া হলো। নির্বাচনের পর সকলকে অবাক করে সেই খলিলকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হলো। প্রশ্ন উঠেছে কার স্বার্থরক্ষায় খলিলকে নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হলো? এতো বড় দল বিএনপিতে একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য লোক নেই? নাকি আমেরিকা ও ভারতের স্বার্থ রক্ষায় তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করতে হয়েছে?
অপ্রিয় হলেও সত্য যে দেশের রাজনীতি যেন স্থলপদ্ম ফুলের মতো হয়ে গেছে। এই ফুল সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা তিনবার রং বদলায়। স্থলপদ্ম সকালে ফুটে সাদা, দুপুরে হালকা গোলাপি এবং সন্ধ্যায় গাঢ় লালচে রঙ ধারণ করে। দেশের রাজনীতি, গণমাধ্যম, সুশীলদের চরিত্র ওই পদ্মফুলের মতোই; সুবিধামতো যখন তখন রং বদলায়। দীর্ঘ ১৭ বছর যে গণমাধ্যম আওয়ামী লীগ বন্ধনা করেছে জুলাই অভ্যুত্থানের পর তারাই অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করা জামায়াতের বন্দনা শুরু করে। ১২ জুলাই নির্বাচনের পর বিএনপির বন্দনায় মেতে উঠে। বিএনপির বন্দনা করে সুযোগসুবিধা নিয়ে সংসদে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে বিএনপি কোনঠাসা হয়ে পড়ায় এখন জামায়াত-এনসিপিতে বাতাস দিচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলকে উস্কাচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ইস্যুতে সরকার বেকায়দায়। মসনদের চেয়ারে অপরিচিত বাইব্রীড ও অদক্ষদের বসানোয় তারা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতার পথে হাটছে। যানবাহনের অভাবে বাজারজাত করা যাচ্ছে না; জমিতে তরমুজ-আলুতে পছন ধরেছে, কৃষক আগামীতে সেচের জন্য তেল পাবেন কিনা তা নিয়ে আতঙ্কিত। জীবনের ঝুকি নিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন করে হাসিনাকে হটানোর পৌনে দুই বছরেও জেন-জি তরুণদের চাকরির দরজা খুলছে না। মানুষের এসব হাজারো সংকট নিয়ে সংসদে আলোচনা নেই। আলোচনা হয় আমেরিকা ছাড়া বাংলাদেশের উপায় নেই। আমেরিকার সঙ্গে এমন বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে যে ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া রাশিয়ার কাছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ জ্বালানি তেল কিনতে পারছে না।
নিন্দুকেরা বলছেন, ‘যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবন’ বিএনপি যেন সে ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি রাজপথ গরম করার পথে হাটছে। দেশের রাজনীতিতে কেবল তারাই যেন একমাত্র দেশপ্রেমিক। তারা বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ড. ইউনূসকে রাজপথে আন্দোলনে নামানোর প্রস্তাব দিচ্ছেন। বিএনপিকে জুলাই সনদ বিরোধী তকমা দিয়ে নিজেদের গণতন্ত্রী হিসেবে জাহির করার চেস্টা করছে। গত কয়েকদিনে সংসদে যে ভাষায় আলোচনা-বিতর্ক হচ্ছে তাতে কোনো শিষ্টাচারের বালাই নেই। জামায়াত-এনসিপি একাট্ট হয়ে ‘সরকাককে গণতন্ত্র ও সংস্কার বিরোধী শক্তি’ প্রমাণে মরিয়া। সংসদের বাইরে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের হুংকার ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। তাদের পক্ষ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে গিরগিটির মতো রং বদল করা কিছু গণমাধ্যম। যারা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে মনে করতেন জামায়াত ক্ষমতায় আসবে সে জন্য নির্বাচনে জাতায়াত বিজয়ী হচ্ছে প্রচারণা চালিয়েছে। নির্বাচনে ভুমিধ্বস বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করায় রাতারাতি রং বদলিয়ে বিএনপিপক্ষীয় হয়ে যান। এখন ১৩৩ অধ্যাদেশ ইস্যুতে বিএনপি সংকটে পড়ে যাওয়ায় তারা উলঙ্গভাবে জামায়াত-এনসিপির সুবিধাজনক অবস্থান জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। এ সাপ্তাহেই সরকারের উদ্দেশে সুশীল প্রতিনিধি শহিদুল আলম বলেছেন, ‘বিএনপির কাছে আমরা ভিন্ন জিনিস আশা করি। জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু আপনারা জনগণের সাথে প্রতারণা করছেন।
মনে রাখবেন, এর আগের এত ক্ষমতাশালী আওয়ামী লীগ সরকারকে যখন হটানো গেছে, এই বিএনপি সরকারকেও হাটানো সম্ভব।’ শহীদুলের সুরের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আরো কয়েকজন কয়েকজন তথাকথিত মানবাধিকার কর্মী সরকারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা বিবৃতি দিচ্ছেন। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিরোধী দলের হুংকারের যুথসই জবাব দিতে পারছে না। নামসর্বস্ব শরীক দলগুলোর যে সব নেতাকে বিএনপি এমপি মন্ত্রী করেছে, তারা সংসদে নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করে ক্ষমতা ভোগ করছেন। অথচ এক সময় এদের কারো কারো মুখে জামায়াতের বিরুদ্ধে কথার ফুলঝুড়ি ছুড়তো। বিএনপির সমর্থনে জোটের এমপি হয়েছেন বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ ছাড়া কেউ জামায়াত-এনসিপির বিরুদ্ধে কথা বলছেন না। আর উড়ে এসে জুড়ে বসে মন্ত্রী এমপি হওয়া বসন্তের কোকিলদের তো মানুষ সম্পর্কে ধারণা নেই। তারা পরিচিতও নন। বিএনপির মাঠের পরিচিত মুখগুলোকে মন্ত্রী-এমপি না করায় তারা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে নীরবতা পালন করছেন। ফলে মাওকা পেয়ে বসেছে জামায়াত-এনসিপি ও তাদের অলিগার্ক গণমাধ্যমগুলো।
এ পরিস্থিতির মূল্যায়ণ করে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, ‘নতুন সরকার পুরোনো ভুল পথে হাটছে। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া হবে তাদের জন্য অশনি সংকেত। সরকার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে চটজলদি নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে ঋণ খেলাপি ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এমন পদে চিন্তাভাবনা করে নিয়োগ দেয়া যেত। প্রয়োজনে কমিটি গঠন করে গভর্নর পদে যোগ্য লোক বাছাই করা যেত। ভবিষ্যতে এমন নিয়োগে সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমানে সরকার হাম ও জ্বালানি সংকটে পড়েছে। সংকট সমাধানে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে সরকারের টিকে থাকা কঠিন হবে।
সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি ও সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। জামায়ায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘সরকারি দলকে জুলাইয়ের বিপরীতে দাঁড় করানোর পাঁয়তারা চলছে। সংস্কার ও সংশোধন আসলে কী?
আমরা তো চাচ্ছি জুলাই সনদে যে বিষয়গুলো আসছে, সেগুলো সংবিধানে আসবে; এবং রীতিনীতি মেনেই আসবে। আমার কাছে মনে হচ্ছে এখানে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমাদের জুলাইয়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে’। বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বক্তব্য দিতে অভ্যস্ত এনসিপি নেতাদের উদ্দেশ্যে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, ‘জুলাই যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আমরাও আছি আপনাদের সঙ্গে। কিন্তু জুলাই চেতনার নামে জামায়াতের জেনারেশন হবেন না’। পার্থের এই বক্তব্যের পর সংসদে তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী বক্তব্য দেন জামায়াত ও এনসিপি নেতারা। শুধু তাই নয় জামায়াত ও এনসিপি সোশ্যাল মিডিয়ায় পার্থের বিরুদ্ধে বট বাহিনীকে সক্রিয় করে তোলে। বট বাহিনী আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের বিরুদ্ধে নিরবিচ্ছিন্ন প্রচারণা চালালেও শরীক দলের মন্ত্রী হওয়া নুরুল হক নূর, জোনায়েদ সাকি ও ববি হাজ্জাজরা নীরব। তাদের গায়ে যেন জামায়াতের অপপ্রচার লাগছে না। বিএনপির ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার ভোগ বিলাসে এতোই ব্যস্ত যে জামায়াত এনসিপি কষ্ট পায় এমন বক্তব্য দিতে নারাজ। শুধু কি তাই, বিএনপির প্রার্থীকে বাদ দিয়ে শেষ মুহুর্তে ঢাকা-১২ আসনে মনোনয়ন দেয়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকও বিএনপির বিপরীতে গিয়ে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সংস্কার-সংস্কার আওয়াজ তুলছেন। গতকালও এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান কোনও ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই হয়েছিল। বিএনপি সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে প্রয়োজনীয় সংস্কার থেকে পিছিয়ে যায়, তবে জুলাইয়ের মতো আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি শুরু করা হবে।
বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকি এবং চলমান সংকট নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, ‘ক্ষমতাগ্রহণের দেড় মাস যেতে না যেতেই বিএনপির সরকার রামধরা খাচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত মানুষকে ভোদাই বানিয়েছে। বিরোধী দল আন্দোলনে গেলে বিএনপি রাষ্ট্রযন্ত্র পুরোপুরি ব্যবহার করে তা দমাতে পারবে না। পুলিশ, আমলাদের অনেকেই বিএনপির পক্ষে থাকবে না। বরং বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াত-এনসিপি যদি আন্দোলনে নামে তাহলে সেখানে আওয়ামী লীগ গুপ্তশক্তি হয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সংস্কার, জুলাই সনদ, ১৩৩ অধ্যাদেশ ইস্যতে বিএনপি পরাজিত হবে; এবং জনমত বিরোধী দলের পক্ষে যাবে। বড় মন্ত্রিসভা গঠনের পাশাপাশি অনেকগুলো উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাদের মন্ত্রী এবং উপদেস্টা করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই রাজনীতি ও সমাজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন। নিবেদিন নেতাদের বাদ দিয়ে এদের কি কারণে চেয়ারে বসানো হয়েছে তা জানা নেই। মন্ত্রিসভা নিয়ে জনগণের কোনো আগ্রহ নেই। বিরোধী দল নিজেদের স্বার্থে সংসদে বিবাদ করছে। জামায়াত-এনসিপি নিজেদের কোটারির বাইরে যাচ্ছে না। হয়তো তারা কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। কিন্তু তাদের মোকাবিলায় যে কৌশল গ্রহণ করা উচিত বিএনপি সে পথে হাটেনি। নুরুল হক নূর, জোনায়েদ সাকি, ববি হাজ্জাজ এবং যারা নিজেদের দল বিলুপ্ত করে বিএনপির প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছেন তারা কেউ বিএনপির উপকারে আসছে না। তারা ক্ষমতা ভোগ করছেন। ঢাকার রাজপথে যারা বিএনপির পরীক্ষিত নেতা তাদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। সংস্কার, গণভোট, সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে সংসদে যে বিতর্ক হচ্ছে তাতে দেশ ও জাতির কোনো স্বার্থ নেই’।