Image description
সিলেট-আখাউড়া, এক মাসে বিভিন্ন কারণে বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছেছে অন্তত ৫০টি ট্রেন, সবশেষে গতকাল তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ১৮ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল

ব্রিটিশ শাসনামলে সিলেট-আখাউড়া রেলপথ স্থাপন করা হয় পণ্য সরবরাহের জন্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রেলপথে সাধারণ যাত্রীরা চলতে শুরু করেন। ট্রেন যাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক হওয়ায় যাত্রীসংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।

তবে শত বছরের পুরোনো এ রেলপথ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত এক মাসে এই রেলপথে ইঞ্জিন বিকলসহ বিভিন্ন কারণে বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছেছে অন্তত ৫০টি ট্রেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনের যাত্রীরা।

এ ছাড়া সিলেট-আখাউড়া রেলপথ গত এক সপ্তাহে চারটি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। সবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলায় সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে ১৮ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

গত বুধবার কুমিল্লায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় বগি তিনটি লাইনের ওপর রেখে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে চলে যায় ট্রেনটি।

গত মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের ভানুগাছ-শমশেরনগর এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। এর আগে গত ২৬ মার্চ ভৈরব বাজার জংশনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় সিলেট রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

জানা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে প্রতিদিন ছয়টি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে চারটি সিলেট-ঢাকা এবং দুটি সিলেট-চট্টগ্রামে চলাচল করে। এই ছয়টি ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। এর সঙ্গে রয়েছে মৌলভীবাজার ও সিলেটে আসা পর্যটক। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী এই রেলপথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

আরও জানা যায়, ২৬১০, ২৯০২সহ বেশ কিছু নম্বরের পুরোনো ইঞ্জিন সিলেট রুটে দেওয়া হয়েছে। এই ইঞ্জিনগুলো অনেক পুরোনো হওয়ায় লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ওঠার সময় বিকল হয়ে যায়। আর এতে অনেক সময় ইঞ্জিনগুলে আংশিক বিকল ও পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। এতে প্রায় প্রতিদিনই ট্রেনের শিডিউল বিলম্বিত হয়।

এ ছাড়া সিলেট-আখাউড়া রেলপথে অন্তত ১০টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব সেতুতে গতি কমিয়ে ট্রেন চালানোর নির্দেশনা রয়েছে। রেললাইন থেকে নিয়মিত নাট-বল্টু ও ক্লিপ চুরি হচ্ছে এবং তীব্র গরমে লাইন বাঁকা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টুকটাক লাইন মেরামত করা হলেও নতুন রেললাইন বা বড় ধরনের মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। পুরোনো রেললাইন থাকায় কোনো কারণ ছাড়াই ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সাধারণ যাত্রী ও আগত পর্যটকদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এই অঞ্চলের ট্রেন যাত্রী ও পর্যটকদের দাবি, দ্রুত সময়ে সিলেট-আখাউড়া রেলপথ দুই লাইনে করা হোক। একই সঙ্গে পুরোনো ও দুর্বল ইঞ্জিন পরিবর্তন করে নতুন ইঞ্জিন যুক্ত করা হোক, যাতে সাধারণ যাত্রীরা নিরাপদে ট্রেনে যাতায়াত করতে পারেন।

জানতে চাইলে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমিও বুঝতে পারছি না হঠাৎ করে এই রুটে কেন এই সমস্যাটা বেড়ে গেল। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে কি না দেখতে হবে। ট্রেনের ইঞ্জিনের সমস্যা আছে ঠিক, তবে ঈদের পর থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি, কী কারণে এ সমস্যাটা বেড়ে গেছে। হবিগঞ্জের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

অন্যদিকে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সারা দেশে ৮৫টি রেলের ইঞ্জিন প্রয়োজন। তবে আমাদের আছে ৭০ শতাংশ। এ কারণে আমাদের কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য অনেক ট্রেনের বিলম্ব হয়। এই জায়গায় কিছু সমস্যা আছে। নতুন করে এডিপির একটি প্রকল্প শুরু করেছি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান হবে।’