Image description
চট্টগ্রামে ট্যাংকার জাহাজ থেকে ৩৭ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট তত গভীর হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। এক মাস ধরে দেশে জ্বালানি তেলের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা দিন দিন বাড়ছে। সরকার বারবার পর্যাপ্ত মজুদ থাকার আশ্বাস দিলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেট্রল পাম্পগুলোয় দেখা যাচ্ছে তেলসংকট, দীর্ঘ লাইন এবং চরম ভোগান্তি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ সরাসরি সরবরাহ ঘাটতি নয়; বরং অসাধু ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিদের অবৈধ মজুদ এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি। বাজারে তেলের সরবরাহ থাকলেও তা সঠিকভাবে বিতরণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কালোবাজারি।
অনেক ক্ষেত্রে তিন গুণ দামে তেল বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও গণপরিবহনের চালকদের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকে তেল না পেয়ে খালি গাড়ি নিয়ে ফিরছে। বেশির ভাগ পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড, আর যেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে তৈরি হচ্ছে অসহনীয় ভিড়।

চালকদের অভিযোগ, সরকার তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক বললেও বাস্তবে সেই চিত্রের প্রতিফলন নেই। এই অসামঞ্জস্য পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যা সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ঘিরে তেলের দাম আরো বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ তেল মজুদ করছে। শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়, বাসাবাড়ি, গ্যারেজ এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেও জ্বালানি তেল সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে।
সরকার এরই মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা, জেলসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি। ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন—কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি বন্ধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি জনগণকে অপ্রয়োজনীয় মজুদ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংকট বা আতঙ্কের সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীদের সক্রিয় হয়ে ওঠা নতুন কিছু নয়। জ্বালানির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটছে না। কিছু ক্ষেত্রে পাম্প থেকেই অতিরিক্ত তেল বাইরে বিক্রির অভিযোগ উঠতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে তা বেশি দামে বিক্রি করার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গাড়ির জন্য দৈনিক বা নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বরাদ্দ নির্ধারণ করা গেলে এবং একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ সীমিত করা গেলে অপব্যবহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে মজুদ করে বিক্রির প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। চাল, চিনি বা ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও অতীতে একই চিত্র দেখা গেছে। তাই সরকারকে যেমন কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে, তেমনি সাধারণ মানুষকেও অপ্রয়োজনীয় মজুদ থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলেই সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলা করা সহজ হবে।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবৈধ মজুদদারদের কারণে আমরা পাম্পগুলোয় বাড়তি সরবরাহ করেও চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। মার্চের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ তেল সরবরাহ করেছি। গত বছর এই সময়ে দৈনিক ১২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন তেল সরবরাহ করা হয়। এই বছরের একই সময়ে ২৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি তেল সরবরাহ করা হলেও সামাল দেওয়া যায়নি। কারণ একদিকে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে তেল নিতে পাম্পে ভিড় করছে, অন্যদিকে অবৈধ মজুদদাররা তেল মজুদ করছে। এর ফলে ৬ মার্চ থেকে ফের আগের বছরের মতো তেল সরবরাহ দেওয়া হয়। পরে ঈদের আগে আগে আবার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি তেল সরবরাহ দেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। তবে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। আশা করছি, খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।’

এদিকে গতকাল সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মজুদ পর্যাপ্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলো আসছে। তাই এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ।’ পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুদ থাকার পরও পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন একই উত্তর দিচ্ছি, গত বছর যা সরবরাহ করেছি, এ বছরও তা-ই করছি। পাম্প মাঝেমধ্যে বন্ধ থাকছে, এটাও আমরা দেখছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে এখনো প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) বন্ধ হয়নি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে মাঝেমধ্যে বিঘ্ন ঘটছে। অবৈধ মজুদ প্রবণতাও রয়েছে। তবে স্বাভাবিক সরবরাহে কোনো সংকট নেই।’ অবৈধ মজুদ ও শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী এরই মধ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কাজ করছে। কম্পানির কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, “গত কয়েক দিনে দেশের প্রায় সব পেট্রল পাম্পেই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গুজব ও ‘তেল ফুরিয়ে যাওয়ার’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, হুড়াহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এতে একদিকে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনেও অনেকেই তেল পাচ্ছে না।”

অবৈধভাবে মজুদ করা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার তেল উদ্ধার : সারা দেশের অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের গতকালের তথ্য মতে, ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট উদ্ধার করা তেলের পরিমাণ তিন লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার। এর মধ্যে ডিজেল দুই লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার, অকটেন ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার এবং পেট্রল ৭০ হাজার ৫৪ লিটার। জানা গেছে, এর জন্য মোট চার হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানের মাধ্যমে দুই হাজার ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মোট এক কোটি এক লাখ ৪৩৫ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান ও আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ জ্বালানি মজুদ প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তেলের মজুদ ২ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন : জ্বালানি বিভাগের গতকালের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে মোট দুই লাখ ৫৫ হাজার ১৮ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। মজুদ করা জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেল রয়েছে এক লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন, কেরোসিন ৯ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন, অকটেন ৯ হাজার ২১ মেট্রিক টন, পেট্রল ১২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল ৫৮ হাজার ৭৩৬ মেট্রিক টন, জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন এবং মেরিন ফুয়েল মজুদ রয়েছে এক হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন।

চালু হচ্ছে ফুয়েল কার্ড অ্যাপ : দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতা ও কারসাজি মোকাবেলায় সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে প্রাথমিক কাজও শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ। এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘জ্বালানি তেল বিক্রিতে সপ্তাহখানেকের মধ্যে জ্বালানির ফুয়েল কার্ড দিতে একটি অ্যাপ চালু করা হবে।’ জানা গেছে, ফুয়েল কার্ড মূলত একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড, যা পেট্রল, ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করলেও এর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ নির্ধারণ, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যায়।

সমন্বিত নজরদারি ও স্বচ্ছতার দাবি ক্যাবের : বৈশ্বিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও পেট্রল পাম্প মালিক। সরকার ও বিপিসির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে গ্রাহকরা পাম্পে গিয়ে দেখছে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারুসহ অন্য নেতারা। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সরকার দাবি করছে বন্দরে তেলের জাহাজ পাইপলাইনে আছে এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তেলের জন্য জেলা-উপজেলা থেকে মানুষ ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শহরে এসেও তেল পাচ্ছে না। বেশির ভাগ পাম্পে দীর্ঘ সারি এবং হাহাকার চলছে। অথচ এক শ্রেণির লোক খোলা ড্রামে ও গুদামে অবৈধভাবে তেল মজুদ করছে, যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানেও ধরা পড়ছে। এ ছাড়া ভাউচার থেকে পাইপ লাগিয়ে তেল চুরির ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

ঢাকার বাইরে অস্থিরতা, ধর্মঘট ও অভিযান : সিলেট বিভাগে ‘অযৌক্তিক’ জরিমানা ও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগে পেট্রল পাম্প মালিকরা হঠাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ঘোষণা দিলেও আড়াই ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশ কমিশনারের আশ্বাসে মালিকরা কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ান। এর আগে সড়ক অবরোধে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

একই ইস্যুতে মৌলভীবাজারেও পাম্প বন্ধ থাকায় পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন। অন্যদিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তেলের সংকটে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিরা উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে প্রশাসনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও পেট্রল জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জরিমানা করা হয়েছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় চোরাই ডিজেলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিনাজপুর সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি পাচার ঠেকাতে বিজিবি টহল ও তল্লাশি বাড়িয়েছে।

জ্বালানিসংকটের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবক আহত হয়েছেন। নওগাঁয় ভিড় এড়াতে নারী সেজে তেল নিতে গিয়ে এক যুবক ধরা পড়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

চট্টগ্রামে ট্যাংকার জাহাজ থেকে ৩৭ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ : চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় জ্বালানি তেল চুরিবিরোধী সাঁড়াশি এক অভিযানে ৩৭ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর ঘাটসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে একটি ট্যাংকার জাহাজে অভিযান চালিয়ে এই ডিজেল উদ্ধার করা হয়।

​চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক), বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। সদরঘাট এলাকায় অবস্থান করা একটি ট্যাংকার জাহাজে তল্লাশি চালালে অবৈধভাবে মজুদ করা প্রায় ৩৭ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। জব্দ করা ওই জ্বালানির পক্ষে জাহাজ কর্তৃপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বড় জাহাজগুলো থেকে তেল চুরি করে ছোট ট্যাংকারে মজুদ করে খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছিল। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা এবং চোরাচালান রোধে কর্ণফুলী নদী ও পতেঙ্গাসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে কোস্ট গার্ড। জব্দ করা ডিজেল ও জাহাজটি প্রশাসনের জিম্মায় রয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জ্বালানি তেল চুরির সিন্ডিকেট বন্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে। যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে ৩৭ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠের সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]