রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মাঠে নেমেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। এ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ফেরিঘাট সংশ্লিষ্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের গাফিলতি, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ছিল কি না, তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও প্রণয়ন করা হবে।
এর আগে গত ২৮ মার্চ দুপুরে জেলা প্রশাসন ও তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এই কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে জানান, দুর্ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৩১ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটিতে বিআরটিএ’র কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
গত ২৫ মার্চ বিকেল প্রায় ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে বাসটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে পানিতে ডুবে যান।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিসি ও ডুবুরিদল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।