সিলেটে হামের সংক্রমণ বেড়েছে। বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধীনে ১৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাদের বয়স ৬ মাস থেকে ২২ বছর পর্যন্ত। সংক্রমণ বাড়ায় হাম রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় রোগীদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। এ কারণে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালকে ডেডিকেটেড আইসোলেশন কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ভর্তি রোগীদের কেউ গুরুতর অবস্থায় নেই।
শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই আইসোলেশন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২৬ মার্চ থেকে কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর প্রথম দিনই ১৫ জন রোগী ভর্তি হন। রোববার বিকেল পর্যন্ত মোট ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৬ জন।
হাসপাতালের রেজিস্ট্রি তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেক সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। এ ছাড়া সিলেট নগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ থেকেও রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত এশিয়া পোস্টকে বলেন, হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শামসুদ্দিন হাসপাতালকে আলাদা আইসোলেশন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। করোনা মহামারির সময়ও হাসপাতালটি ডেডিকেটেড চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তিনি জানান, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে—একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ১০ থেকে ১২ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারেন। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
টিকার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী এক মাসের জন্য পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুর রহমান জানান, গত মাসে নগরে হামের স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালানো হয়েছিল এবং তখন একজন রোগী শনাক্ত হন। তবে ঈদের পর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক।