তথ্য ও যোগাযোগের অন্যতম মহাসড়ক থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইরান। যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আজ ৩০তম দিনে পদার্পণ করেছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘নেটব্লকস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেটে নজিরবিহীন সেন্সরশিপ এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। ইরানি নাগরিকরা গত ৬৯৬ ঘণ্টা ধরে ইন্টারনেট সেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত।
রোববার (২৯ মার্চ) আলাদা প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও সিএনএন। বিশ্বের সঙ্গে ইরানের ইন্টারনেট সংযোগ বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে নেটব্লকস।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেটব্লকস জানিয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ব্ল্যাকআউট এখনও কার্যকর রয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্নতা ইরানি জনগণের তথ্য পাওয়ার এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের মৌলিক মানবাধিকারকে চরমভাবে লঙ্ঘন করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধকালীন গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সংবাদের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতেই তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই যুদ্ধের কারণে দ্বিতীয়বারের মতো আবারও দীর্ঘ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়ল দেশটি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ইন্টারনেট না থাকায় যুদ্ধের সঠিক খবর পাওয়া কিংবা বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারপন্থি কিছু নির্দিষ্ট ব্যবহারকারী এবং সংবাদকর্মী কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, সাধারণ নাগরিকদের ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার জন্য গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। যোগাযোগের এই আকালকে পুঁজি করে এক ধরনের কালোবাজারিও তৈরি হয়েছে দেশটিতে।
বিকল্প হিসেবে কিছু বিত্তবান নাগরিক ইলন মাস্কের ‘স্টারলিংক’ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এই পথটি যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানি আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে স্টারলিংক যন্ত্র কাছে রাখা বা ব্যবহার করা প্রমাণিত হলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে এই স্যাটেলাইট ডিভাইসগুলো জব্দের চেষ্টা চালাচ্ছে।