বাড়ি থেকে ফেরার সময় মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় রাজীব বিশ্বাসের। বলেছিলেন, ঢাকা পৌঁছে মাকে কল করবেন। কিন্তু মাকে তার কল দেওয়া হলো না। ঢাকা পৌঁছানোর আগে নদীতে ডুবে মারা গেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার স্থানীয় শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশানে রাজীবের মরদেহ দাহ করা হয়।
জানা গেছে, ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং অফিসার ছিলেন রাজীব। দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি নেন তিনি। ঈদের ছুটি শেষে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খাগরবাড়িয়া থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসে বুধবার তিনি ঢাকায় ফিরছিলেন।
রাজীবের বাবা হিমাংশু বিশ্বাস জানান, রাজীব তার মাকে বলে যান, ঢাকা পৌঁছে কল করে জানাবেন। বিকেলে তারা জানতে পারেন, ছেলে যে বাসে ছিলেন, সেই বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। এরপর ছেলের মৃত্যুর খবর পান। রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ১১ নারী, ৮ শিশু ও ৭ পুরুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।