যশোরে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় শহরের বেহাল বিজয়স্তম্ভ এবং স্মারকফলক কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম সম্বলিত স্মারকফলকটি আড়াল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হলেও বিজয়স্তম্ভের মলিন ও জরাজীর্ণ অবস্থায় অনেকের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘প্রতিবছর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পৌরসভা বিজয়স্তম্ভ পরিষ্কার রাখে। কিন্তু এ বছর তা মলিন ও নোংরা দেখা গেছে। এছাড়া কাপড় দিয়ে উদ্বোধনের স্মারকটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম থাকায় বিষয়টি ইচ্ছাকৃত বলে মনে হচ্ছে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক ক্ষোভ জানিয়ে বলেন বলেন, ‘আমি চোখ বন্ধ করে গিয়েছিলাম এবং চোখ বন্ধ করেই ফিরে এসেছি। প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নয়।’
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মযহারুল ইসলাম মন্টু বিষয়টিকে ‘নোংরামি’ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ইতিহাস কখনো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজয়স্তম্ভের মূল ফলকে লেখা রয়েছে— ‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে বিজয়স্তম্ভ।’ ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই ফলকটির বঙ্গবন্ধুর নামের অংশটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, ‘বিজয়স্তম্ভের সংস্কার কাজ হবে, সেজন্যই এখন পর্যন্ত কোনো পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়নি।
স্মারকফলক ঢেকে রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটিও সংস্কার কাজেরই অংশ।’