ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে কৃষক দল নেতা আবুল কাশেম নিহতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের ছেলে মেহেদি হাসান ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে হরিণাকুণ্ডু থানায় এই মামলা করেন। তবে পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এদিকে কৃষক দল নেতা নিহতের ঘটনায় জামায়াতের অন্তত ১০-১২ কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতেই কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর বিএনপি নেতাকর্মীরা এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত সমর্থকরা।
এতে কাপাশহাটিয়ার কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ, তার ভাই মেশাররফ হোসেন, নায়েব আলী, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদুর রহমান, মিটুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, মতিয়ার রহমান লিটন ও মাজিজ মন্ডলসহ ১০-১২ জনের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত নেতা আজিজ, নায়েব আলী ও মতিয়ার রহমানের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাতেই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
মতিয়ার রহমান লিটন নামে এক জামায়াত সমর্থক দাবি করেন, বুধবার সংঘর্ষে নিহত হওয়ার পর রাত ১১টার দিকে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ তিনি সংঘর্ষের সময় ছিলেনও না, কিছুই জানেন না।
এদিকে কৃষক দল নেতা আবুল কাশেম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
কয়েক দিন আগে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে কৃষক দল নেতা আবুল কাশেম ও তার চাচা নাজের আলী, বিএনপি সমর্থক মন্টু, এনামুল ও সেলিমসহ কয়েকজনের সঙ্গে জামায়াত নেতা রিমন হোসেন ও আব্দুল আজিজের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এ নিয়ে বুধবার রাতে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বিএনপি সমর্থক মন্টু, এনামুল ও সেলিমসহ কয়েকজনের সঙ্গে জামায়ত সমর্থক আব্দুল আজিজ, মেশারেফ হোসেন, মাজিদ, লিমন, রিমন, আব্দুল আলীম, আবু বকর, মিরাজ ও মাসুদের ফের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এনামুল হক নামে কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে আবুল কাশেম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফুদ্দৌলা ঝন্টু বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে পরিবারটি বিএনপি-জামায়াতে বিভক্ত। রাতে এ ঘটনার জেরে অনেকের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেন বলেন, আবুল কাশেম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাকে কেউ হত্যা করেনি। বিএনপি মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, জামায়াত ফ্যাসিস্ট আও লীগকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে না। তিনি এ হত্যার বিচার দাবি করেন।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, নিহতের ছেলে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত থেকেই ওই গ্রামে পুলিশ পাহারা দেওয়া হয়। সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন। রাতে একটা রান্নাঘরে সামান্য একটু আগুন দিয়েছিল।
এদিকে পারিবারিক কলহের জেরে সংঘর্ষের সময় স্ট্রোকজনিত কারণে কৃষক দল নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াত। বৃহস্পতিবার বিকেলে হরিণাকুন্ডু উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি করা হয়, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের মধ্যে বিরোধের জের ধরে সৃষ্ট মারামারিতে হরিণাকুন্ডুর কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য রাজনৈতিক রং মাখিয়ে কিছু নিরীহ মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে।