ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট। তার এই পদত্যাগে কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ওভাল অফিসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কেন্ট ব্যক্তিগতভাবে ভালো মানুষ হলেও নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত দুর্বল।
তিনি আরও বলেন, কেন্টের পদত্যাগ একটি ভালো দিক। যারা মনে করে ইরানের ওপর হামলা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, আমাদের প্রশাসনে তেমন লোক দরকার নেই।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পদত্যাগপত্রটি শেয়ার করে জো কেন্ট লিখেছেন, আমি আমার বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চলছে, তা নৈতিকভাবে সমর্থন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধের পেছনে কোনো নিরাপত্তার কারণ ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান কোনো তাৎক্ষণিক বা আসন্ন হুমকি তৈরি করেনি। ইসরায়েল এবং দেশটির প্রভাবশালী মার্কিন লবি গ্রুপগুলোর মদদে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে, এটি এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর বদলা নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ও মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।
চলমান এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি দিনদিন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে তেলের দাম প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।