Image description
আইআরজিসির হামলায় বিস্মিত ট্রাম্প। মার্কিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান মোজতবা খামেনির * যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টার পরিচালকের পদত্যাগ * আলী লারিজানি ও সোলাইমানিকে হত্যার দাবি ইসরাইলের।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ১৮তম দিনেও একইভাবে হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। মঙ্গলবারও এর পালটা জবাবে ইসরাইল ও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এ প্রতিরোধ হামলায় ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে যৌথ বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আইআরজিসির হামলায় রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করা হলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে ইসরাইলকে প্রকৃত শত্রু উল্লেখ করে ইরানের পাশে দাঁড়াতে মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি। খবর বিবিসি, এপি, রয়টার্স, সিএনএন, আলজাজিরার।

রাজধানী তেহরানসহ খারাজ, শাহরিয়ার ও সিরাজে মঙ্গলবার সিরিজ হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের এ হামলার লক্ষ্য ছিল আইআরজিসির গোয়েন্দা দপ্তরসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা। এতে হতাহতের শিকার হয়েছেন শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিরপরাধ ইরানি। এর জবাবে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৫৭ দফার বেশিবার ইসরাইল ও মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হাইব্রিড হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইরান। মঙ্গলবার সকাল থেকে নতুন দফার এই হামলা শুরু হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইল পুলিশের সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন দফার হামলায় ‘সলিড এবং লিকুইড ফুয়েলযুক্ত একাধিক ওয়ারহেড’, সেই সঙ্গে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সামরিক বাহিনী বলছে, ইরান থেকে ইসরাইল লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে ১৮ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় অন্তত ১২ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছেন তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেঘ মোতামাদিয়ান। গভর্নর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণের জন্য পৌরসভা কার্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০০ জন, এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এ তথ্য জানিয়েছেন। হকিন্স বলেছেন, ১৮০ জন সেনাসদস্য ইতোমধ্যেই কাজে ফিরে এসেছেন। আহতদের মধ্যে দগ্ধ, আঘাতজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং বিস্ফোরণের টুকরো দ্বারা আঘাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশে লারিজানির খোলা চিঠি : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে খোলা চিঠি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান এবং সচিব আলী লারিজানি। আরবি ভাষায় লেখা সেই খোলা চিঠিতে আলী লারিজানি বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তার একদিকে আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল এবং অপরদিকে আছে প্রতিরোধী শক্তি। আপনারা সবাই জানেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কারও প্রতি বিশ্বস্ত নয় এবং ইসরাইল আপনাদের শত্রু। এক মুহূর্তের জন্য থামুন এবং এই অঞ্চলের ভবিষ্যতের বিষয়টি চিন্তা করুন। ইরান সব সময়ই আপনাদের প্রতি আন্তরিক এবং কখনো আপনাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না।’ ইরান বর্তমানে ‘মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসনের’ শিকার উল্লেখ করে লারিজানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে এই আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছে এবং এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, ইরানের এমন কঠিন সময়ে মুসলিম দেশগুলো খুবই সীমিত মাত্রায় সমর্থন দিচ্ছে। তবে এই যুদ্ধ আগ্রাসী শক্তিকে ভোগাবে। কারণ ইরানের সাহসী জনগণ এত সহজে ছাড় দেবে না। তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান : ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। মধ্যস্থতাকারী দুটি দেশের মাধ্যমে তেহরানের কাছে এসব প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলে মঙ্গলবার একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রথম পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক অধিবেশনে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান দেখিয়েছেন। তবে ওই বৈঠকে তিনি সশরীর উপস্থিত ছিলেন কি না, তা ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি। ওই কর্মকর্তা বলেন, সর্বোচ্চ নেতা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে হাঁটু গেড়ে পরাজয় স্বীকার করতে ও ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য না করা পর্যন্ত শান্তির জন্য এটি সঠিক সময় নয়।

এদিকে ইরান পদাতিক বাহিনী মোতায়েন করলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভিয়েতনামের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। সোমবার স্কাই নিউজে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভিয়েতনামে কী ঘটেছিল সেগুলো একটু পড়ে দেখুন। ইরানেও মার্কিন সেনারা একই পরিণতি ভোগ করতে পারে। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান যতদিন প্রয়োজন লড়াই করতে প্রস্তুত। আমরা এখানে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি না। তবে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নাকচ করে দেননি। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনবোধে এ সংঘাত শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র এবং এর সহযোগীকেই প্রস্তাব উত্থাপন করতে হবে।

আলী লারিজানি ও সোলাইমানিকে হত্যার দাবি : ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েল কাৎজ এই তথ্য জানান। তবে এই খবরের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া আইআরজিসির আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। সোমবার রাতে এক হামলায় সোলাইমানি নিহত হয়েছেন বলে এ দাবি করা হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, সোলাইমানির এ মৃত্যু ইরানের ‘কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল’ বা সামরিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর জন্য একটি ‘বড় ধরনের ধাক্কা’। তবে এই খবরের বিষয়েও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানোর দাবি ট্রাম্পের : ইরানে হামলার কারণে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানো গেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও দাবি করেন, যদি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা না করত তাহলে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করে প্রথমে এটি ইসরাইলে ছুড়ত। এরপর টার্গেট করত মধ্যপ্রাচ্যকে। আর এমন পারমাণবিক হামলা হলে এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিত। যেখানে কোনো কিছুই অক্ষত থাকত না। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সবাই নিহত হয়েছেন। যারা নতুন নেতা হয়েছেন তাদের তারা চেনেন না। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমরা কাদের সঙ্গে (ইরানের নেতা) কথা বলছি। কারণ আমরা কখনো তাদের ব্যাপারে শুনিনি।’ এছাড়া ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের জন্য ভালো কাজ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে যথেষ্ট সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরও ইরানকে এখনো পালটা জবাব দিতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান এখনো হাজার হাজার ক্ষেপণান্ত্র নিক্ষেপ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এতগুলো দেশে তাদের হামলা চালানোর কথা ছিল না। এটা কেউ ভাবতেও পারেনি। আমরা বিস্মিত হয়েছি।

ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের পরিচালকের পদত্যাগ : ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিবেক ইরানে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করতে সাড়া দেয় না।’ এক্স-এ পোস্ট করা ওই চিঠিতে কেন্ট আরও লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান কোনো আসন্ন হুমকি তৈরি করেনি। এটি স্পষ্ট যে, আমরা ইসরাইল ও তাদের প্রভাবশালী আমেরিকান লবির চাপে এই যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি।’

ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে পাকিস্তানি নিহত : সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার আবুধাবির বানি ইয়াস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে আমিরাত মিডিয়া অফিস জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি একজন পাকিস্তানি নাগরিক।

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা : ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন সেনা ও ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে পালটাপালটি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাগদাদের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। বাগদাদের জাদরিয়া এলাকায় এই প্রাণঘাতী হামলার কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণের কাছ থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আলজাজিরার ভিডিও ও স্থিরচিত্রে দেখা গেছে, মার্কিন দূতাবাসের কাছ থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। অন্যান্য ফুটেজে দূতাবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বেশ কিছু ড্রোন মাঝপথে রুখে দিতে দেখা গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে দূতাবাসের ‘সি-র‌্যাম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তবে একটি ড্রোন দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে আছড়ে পড়ে। এতে গ্রিন জোনের একটি হোটেলে আগুন ধরে যায়। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ‘তিনটি ড্রোন ও চারটি রকেট দিয়ে দূতাবাসে হামলা করা হয়, যার মধ্যে অন্তত একটি ড্রোন ভেতরে গিয়ে আঘাত হানে।’ একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, তিনি অন্তত তিনটি ড্রোনকে মার্কিন দূতাবাসের দিকে উড়তে দেখেছেন। এর মধ্যে দুটি ভূপাতিত করা হলেও একটি দূতাবাস চত্বরে আঘাত হানে। ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, হামলা শুরুর পর এটি ছিল সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ।

কাতারে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন : কাতারের আকাশসীমায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি শিল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। স্বরাষ্ট্র ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ওই ‘সীমিত পর্যায়ের আগুন’ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। মূলত ওই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার পর সেটির খণ্ডাংশ নিচে পড়লে আগুনের সূত্রপাত হয়।