ট্রেন পরিচালনায় জ্বালানি তেলের (ডিজেল) জোগান দিতে গিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মহাচিন্তায় পড়েছে। রেলের ১২টি ডিপোতে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটিতে অন্তত ৩০ দিনের বেশি তেল মজুত থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে একেকটি ডিপোতে ৭ থেকে ১৫ দিনের তেল মজুত রয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় তেলের মজুত কমছে। মজুত নিশ্চিত করতে না পারলে ট্রেন পরিচালনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে। তেলের অভাবে ঈদের পর ট্রেন চলাচলে সমস্যা হতে পারে। তবে তেলের সংকট নিরসন ও মজুত বাড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, কোনো সমস্যা হবে না।
শুক্রবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনকালে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঈদযাত্রায় গণপরিবহণে তেলের কোনো সমস্যা হবে না। গণপরিবহণে যতটুকু তেল প্রয়োজন, রোববার থেকে সেটা নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জ্বালানিমন্ত্রী আমাকে নিশ্চিত করেছেন। তেল নিয়ে দুর্ভোগ হওয়ার আশঙ্কা আমি দেখছি না। শনিবার রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যুগান্তরকে বলেন, পর্যাপ্ত তেল মজুত রাখতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। শনিবার রাত থেকে তেল পৌঁছে যাবে। নিরাপদ ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি।
জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ঈদের সময় ১০ জোড়া বেশি ট্রেন চলাচল করে। বর্তমানে ২৯০টি ট্রেন চলছে। যে হারে ডিজেলের মজুত কমছে তাতে যে কোনো সময় ট্রেন পরিচালনা সমস্যায় পড়তে পারে। দেশে শতভাগ ট্রেন ডিজেলে চলে। রেলে প্রতিমাসে ৫৭ লাখ লিটার এবং প্রতিদিন ১ লাখ ৯০ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। অথচ রেলওয়ের ডিপোগুলোয় ডিজেলের মজুত আশানুরূপ নয়। ঢাকা ডিপোতে ছয়দিনের তেল মজুত রয়েছে। বাকি ডিপোগুলোয় ৭ থেকে ১৫ দিনের তেল মজুত আছে। চুক্তি অনুযায়ী, রেলওয়ের ডিপোতে প্রতিদিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তেল দেওয়ার কথা। কিন্তু কয়েকদিন ধরে বিপিসি তেল দিতে পারছে না। এ কারণে ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা বেশ চিন্তায় পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুব চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে ঈদ স্পেশাল ট্রেন এবং অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করে প্রায় প্রতিটি ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ডিজেল লাগছে। প্রতিটি ডিপোতে ৩০ দিনের বেশি তেল মজুত রাখার নিয়ম। অথচ মজুত দ্রুততার সঙ্গে কমছে। একেকটিতে ৭ থেকে ১৫ দিনের মতো তেল মজুত রয়েছে। তেল মজুত নিশ্চিত করতে না পারলে ট্রেন পরিচালনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে। তবে আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যেই তেল মজুত প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হবে।
শনিবার রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলে চলা ট্রেনগুলোয় বেশি তেল খরচ হয়। অথচ কোনো ডিপোতেই পর্যাপ্ত তেল মজুত নেই। ঈদযাত্রার পর তেলের অভাবে ট্রেন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। ট্রেন পরিচালনায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে।
পূর্বাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, যে হারে তেলের মজুত কমছে, সে হারে মজুত সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের মজুত বাড়বে। ট্রেন পরিচালনায় যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হচ্ছে।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী আমরা রেলওয়েতে তেল দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু কয়েকদিন ধরে তেল দিতে পারছি না। রেলের কাছে আমাদের বহু বকেয়া রয়েছে। তবে চুক্তি অনুযায়ী তেল দিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
শনিবার রেলওয়ে মহাপরিচালক প্রকৌশলী আফজাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ঈদযাত্রায় ট্রেন পরিচালনা করা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ঈদযাত্রার পর তেল সংকট চরমে উঠতে পারে। মজুত বাড়াতে না পারলে ট্রেন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। ঢাকার ডিপোতে তেল একেবারেই কমে গেছে।
বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলে ১৫ দিনের বেশি তেল মজুত আছে। পূর্বাঞ্চল রেলে কিছুটা কম মজুত আছে। আমরা আশা করছি, সমস্যা সমাধান হবে। তেলের সংকটে ঈদযাত্রায় কোনো সমস্যা হবে না। ট্রেন পরিচালনা স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি ডিপোতে এক মাসের বেশি তেল মজুত রাখা জরুরি।