Image description

ইরানের খার্ক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সতর্ক করে আইআরজিসি বলেছে, সেখানে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো এখন থেকে ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু। আলজাজিরার খবর জানাচ্ছে, এ হুঁশিয়ারির পর শনিবার (১৪ মার্চ) আরব আমিরাতে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের দুই সপ্তাহের মাথায় ইরানের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা খার্ক দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট প্যাপ মনে করেন, হতাশা থেকেই ইরানের খারগ দ্বীপে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘কারও মাথার ভেতরে কী চলছে তা বোঝা কঠিন, বিশেষ করে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে। তবে মনে হচ্ছে তিনি এমন একটি পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে চাইছেন, যেখানে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন ধরে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।’

প্যাপের মতে, ট্রাম্প শুরুতে কয়েক দিনের একটি যুদ্ধকৌশল নিয়ে এগিয়েছিলেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সংঘাতটি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প ভেবেছিলেন এই হামলার ফলে ইরানের শাসনব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়বে। কিন্তু তা না হওয়ায় তিনি নিজেই বিস্মিত।’

প্যাপ বলেন, ‘ট্রাম্প এখন বুঝতে পারছেন যে কৌশলগতভাবে কিছু সাফল্য পেলেও বৃহত্তর কৌশলে তিনি সফল হননি। তাই তিনি নতুন কৌশল খুঁজছেন। খার্গ দ্বীপে অভিযান বা মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। এতে মার্কিন সেনাদের এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে, যেখানে তারা দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বিজয় আনবে বলে মনে হচ্ছে না। বরং এর ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।’

বুশেহর বন্দর থেকে ৩৪ মাইল উত্তর-পশ্চিমে এবং ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে খার্গ দ্বীপ অবস্থিত। ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত দ্বীপটি থেকে বছরে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়ে থাকে। এই পরিমাণ ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ।

ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের মতে, দ্বীপের স্থাপনাগুলো জ্বালানি খাতের অত্যাবশ্যকীয় স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এই টার্মিনালটি তিনটি প্রধান অফশোর ক্ষেত্র—আবুজার, ফারুজান এবং দোরুদ থেকে অপরিশোধিত তেল গ্রহণ করে। এরপর সেগুলো সমুদ্রতলের পাইপলাইনের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্থলভাগের প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে বিশ্ববাজারে পাঠানোর আগে জাহাজে তোলা হয়।

বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে উৎপাদন মাঝেমধ্যে ব্যাহত হলেও, ইরান এই দ্বীপের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস জানায়, তেহরান ২৫ এবং ২৬ নম্বর ট্যাংক দুটির সংস্কারের মাধ্যমে টার্মিনালটির সংরক্ষণ ক্ষমতা আরও ২০ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি করেছে। ঐতিহাসিকভাবে এই টার্মিনালগুলোর লোডিং ক্ষমতা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যদিও বর্তমানে জাতীয় রপ্তানির পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল।