Image description
চলমান সংকট মোকাবিলা

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে আলজেরিয়া থেকে জ্বালানি তেল আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকবার চিঠি চালাচালির পাশাপাশি আলোচনাও অব্যাহত আছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি বলে জানা গেছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহের নতুন উৎস সন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসাবে এ দেশটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আলজেরিয়া থেকে তেল নিয়ে আসার বিষয়টি অনেকদূর এগিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকে বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়নি। ফলে সংস্থাটির নিজস্ব তহবিলের অর্থেও এই তেল কেনা হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বিপিসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এর আগে কখনো আলজেরিয়া থেকে তেল আনা হয়নি। এটিই প্রথম উদ্যোগ। আমাদের নতুন নতুন উৎস খোঁজা প্রয়োজন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণত এশিয়ার দেশগুলো থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। যেমন-ভারত, চীন, থাইল্যান্ড ইত্যাদি। কিন্তু সেসব দেশ যখন অপরিশোধিত তেল আনতে পারবে না তখন তো আমাদেরও সরবরাহ করতে পারবে না। তখন সংকট বাড়বে। এছাড়া আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য সমস্যা হলো ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল পাওয়া। তারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ক্রুড অয়েল এনে পরিশোধন করে থাকে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কিছু উদ্যোগ আমাদের আগে থেকেই আছে। যেমন মহেশখালীতে একটি নতুন ডিপো করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া পাইপলাইনের পাশে ছোট ছোট কয়েকটি স্টোরেজ তৈরি করা হয়েছে। কুমিল্লায়ও একটি ছোট স্টোরেজ আছে। এক কথায় ৬০ দিনের মজুত ক্যাপাসিটি তৈরির একটি চলমান উদ্যোগ আছে। তবে এই সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে বিপিসি। আমদানি করা জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ আসে অপরিশোধিত তেল হিসাবে। এই তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে পরিশোধন করা হয়। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ আসে আগে থেকেই পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য হিসাবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ফার্নেস অয়েল।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইআরডির সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী শনিবার বলেন, এখনো কোনো সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়নি। তবে বিপিসি চাহিদা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সম্ভাব্য কোন কোন দেশ বা সংস্থার কাছে সহযোগিতা চাইব সে বিষয়ে কাজ করছি। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, এখনো জ্বালানি তেল কেনার জন্য বৈদেশিক ঋণের চাহিদা ইআরডির কাছে আসেনি।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশকে ঋণ দিয়ে থাকে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফাইন্যান্স কোম্পানি। এর বাইরে তেমন কোনো সংস্থা বা দেশ থেকে ঋণ আসে না।

এ প্রসঙ্গে ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি তেলের নতুন উৎস খোঁজার উদ্যোগটি ভালো। কেননা মজুত না বাড়ানো গেলে আপৎকালীন সময় নানা সংকট তৈরি হতে পারে। তেলের নতুন উৎস খোঁজার সঙ্গে সঙ্গে এ খাতে নতুন ঋণের উৎসও খোঁজা জরুরি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অপরিশোধিত তেলের পুরোটা আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। প্রধান উৎস হলো সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে প্রতিবছর প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টন ‘অ্যারাবিয়ান লাইট’ ক্রুড বাংলাদেশে আসে। এছাড়া আমিরাতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি অ্যাডনকের মাধ্যমেও তেল আমদানি করা হয়। এসব তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়েই আসে।

সরকার-টু-সরকার চুক্তি এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হয় পরিশোধিত জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য। প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিপিসি যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তেল কিনেছে, এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক (চীন), এনওসি (ইউএই), ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, ওকিউ ট্রেডিং (ওমান), পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান (মালয়েশিয়া) ও পিটিটি (থাইল্যান্ড)।