ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে বিমান চলাচলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের ব্যস্ত কিছু বিমানবন্দর সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের এখনই ‘পাওয়া যাচ্ছে এমন বাণিজ্যিক যাতায়াত ব্যবহার করে’ ওই অঞ্চল ছাড়ার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে ইরানের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের উপর একটি বিস্তৃত বিমান চলাচল এলাকা এখনো বন্ধ রয়েছে। কিছু ফ্লাইট পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে (যেমন দুবাই ও আবুধাবি) ছাড়ছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো অস্থির। এ অবস্থায় ভ্রমণকারীদের সরকারি সতর্কতা ব্যবস্থা মনিটর করতে এবং এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে
বলা হয়েছে। ইরানের নতুন হামলা সৌদি আরবে সোমবার রাতেও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। মঙ্গলবার সকালেও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইসরাইল, বাহরাইন, ইরাক ও জর্ডানের আকাশ প্রায় খালি ছিল। যা ফ্লাইট রাডার২৪-এর মানচিত্রেও দেখা যাচ্ছে।
ওই এলাকা কয়েকটি বড় এয়ারলাইনের ঘাঁটি। তার মধ্যে দুবাই ও আবুধাবির এমিরেটস, ইতিহাদ এবং কাতারের কাতার এয়ারওয়েজ উল্লেখযোগ্য। এই শহরগুলো আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রাণকেন্দ্র। প্রতি বছর লাখ লাখ যাত্রী এগুলোর মাধ্যমে ভ্রমণ করেন। এমিরেটস সোমবার রাতে সীমিত আকারে ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে। ফ্লাইট দুবাই সোমবার সীমিত ফ্লাইট চালু করেছে। ইতিহাদ-এর সব নির্ধারিত ফ্লাইট ৪ঠা মার্চ দুপুর ২টা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। কাতারের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটও স্থগিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের ‘এখনই (ওইসব) দেশ ছাড়তে’ বলেছে। সরকারের স্টেপ (এসটিইপি) প্রোগ্রামে নিবন্ধন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কানাডা নাগরিকদের সতর্ক করেছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যত দ্রুত সম্ভব বের হওয়ার জন্য চেষ্টা করুন’। বৃটিশ নাগরিকদের বলা হয়েছে বাহরাইন, ইসরাইল, কুয়েত, ফিলিস্তিন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান নিবন্ধন করতে। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য জরুরি পোর্টাল খোলা হয়েছে এবং পরামর্শ দেয়া হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশে যাত্রা এড়াতে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইট
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর আগে রোববার ও সোমবারও হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জার্মান এয়ারলাইন লুফথানসা দুবাই, তেল আবিব, বৈরুত, আম্মান, এরবিল, দাম্মাম ও তেহরান ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়া ভ্রমণকারীদের দ্রুত এয়ারলাইন বা ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এমিরেটস জানিয়েছে, ২০শে মার্চের মধ্যে বিকল্প ফ্লাইট বুকিং বা রিফান্ড করা হবে। ইতিহাদ বলেছে, ১৮ই মার্চ পর্যন্ত বিনামূল্যে পুনঃনির্ধারণ করা হবে ফ্লাইট। বৃটিশ এয়ারওয়েজ বলেছে, ২৯শে মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট তারিখ পরিবর্তন বা ৮ই মার্চের আগে ফ্লাইটের ক্ষেত্রে পুরো রিফান্ড করা হবে।
বিস্তৃত আকাশসীমা বন্ধ থাকায়, অনেক সরকারের পক্ষে নাগরিকদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা কঠিন। নেদারল্যান্ডস জানিয়েছে, বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় নাগরিকদের দেশে ফেরানো এখন সম্ভব নয়। দুবাই থেকে বিশেষ ফ্লাইটে সোমবার রাতে কিছু যাত্রী ভারত গিয়েছে। তবে কিছু ফ্লাইট মঙ্গলবার সকালে ঘুরে এসেছে। ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়া তাদের কর্মীদের প্রস্থান সুবিধার পরিকল্পনা করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সংঘাতের সময় আটকে থাকা যাত্রীদের খাদ্য ও আবাসনের খরচ বহন করছে এবং হোটেলগুলোকে থাকার সময় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।