Image description

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করতে পারা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সাফল্য হলেও দেশটির গতিপথ বদলে দেওয়া এখনো অনেক কঠিন বলেই মনে করছেন একজন বিশেষজ্ঞ।

তেহরানভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক আবাস আসলানি আল জাজিরাকে বলেছেন, ৩৭ বছরের বেশি সময় ধরে খামেনি দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন। ফলে তার হত্যাকাণ্ড ইরানের জন্য ‘একটি বড় শূন্যতা’ তৈরি করতে পারে।

তবে তিনি এও বলেছেন, “ভুলে গেলে চলবে না যে, তিনি (খামেনি) যে অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছেন, তা এখনো বহাল রয়েছে। এ কারণেই আমরা দেখেছি, তার হত্যার পরও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে আসা হামলার জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। 

“এটা ইঙ্গিত দেয় যে, তার দায়িত্বকালে গড়ে তোলা কাঠামো এমন, যা তার মত বড় ব্যক্তিত্বের অনুপস্থিতিতেও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।”

ইরানের সংবিধানও অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য একটি পথ নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে জানিয়েছে, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করবে।

এই প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তবে আসলানির ধারণা, ইরান যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, তা সামাল দিতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ হামলার পর ইসরাইল ইরানকে ‘বিভক্ত করার চেষ্টা’ করছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে লারিজানি বলেন, ইসরাইলি ‘শাসকগোষ্ঠীর টিকে থাকার জন্য বড় দেশগুলোকে বিভক্ত করার পথেই হাঁটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘লুটপাটের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ট্রাম্প ইরানের সম্পদ দখলের চেষ্টা করছেন। আমেরিকা ও জায়নিস্ট শাসন ইরানি জাতির হৃদয় জ্বালিয়ে দিয়েছে, আমরাও তাদের হৃদয় জ্বালিয়ে দেব।