Image description

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত “বোর্ড অব পিস”-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বোর্ডের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হচ্ছে—বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত সমাধান করা এবং গাজার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন তদারকি করা।

এই আমন্ত্রণের খবর সামনে আসে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি), এমন এক সময় যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং সেখানে শান্তিচুক্তি এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় বসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এই যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। তবে বাস্তবে যুদ্ধটি এখন ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। শান্তি আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই আলোচনার গতি আবারও শ্লথ হয়ে পড়েছে।

হোয়াইট হাউস বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাদের নিয়ে গঠিত হবে এই “বোর্ড অব পিস”। বোর্ডটির চেয়ারম্যান থাকবেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, “প্রেসিডেন্ট পুতিনও এই বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন।”

তিনি বলেন, রাশিয়া এই প্রস্তাবের “সব দিক ও সূক্ষ্ম বিষয়গুলো” ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরিষ্কার করতে চায়। তবে পুতিন এই বোর্ডে যোগ দিতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

এদিকে  পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও ট্রাম্প এই গ্রুপে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মস্কো দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সব বড় পক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে—এর মধ্যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই ছিল।

তবে গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা গণহত্যামূলক যুদ্ধ এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে পুতিন ইসরায়েল থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছেন। এর বদলে তিনি ইরানের মতো ইসরায়েলের বিরোধী শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছেন।

পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার মধ্যে মস্কো উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে। সূত্র : আল-জাজিরা