Image description
 

ভোট এলেই কদর বাড়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রামনাথের ভিটা এলাকার দশ গ্রামের মানুষের। আর ভোট পার হলেই পাত্তা পাওয়া যায় না জনপ্রতিনিধির। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের মুখে এই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে দশ গ্রামের ভোটাররা এবার খুব বিরক্ত।

 

তবে এবার তাদের কথা আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চান না ওই দশ গ্রামের ভোটাররা। ভোট দেব তাকেই যে প্রার্থী আমাদের লিখিতভাবে বলবেন- সাঁকো ভেঙে ব্রিজ তৈরি করে দেবেন।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের আলাই নদীতে একটি ব্রিজের অভাবে দশ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ সহজ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। রোগীকে ঘাড়ে করে পার করতে হয় আর নড়বড়ে সাঁকোর কারণে নারী ছাড়াও প্রায় সাড়ে তিনশ দরিদ্র শিশু কিশোর স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত হতে পারে না। বর্ষায় জীবনের ঝুঁকির কারণে অনেকেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন।

বাদিয়াখালীতে আলাই নদীবেষ্টিত জামাইপাড়া মফুরজান, গোয়ালবাড়ি, রামনাথের ভিটা, পোড়াগ্রাম, সর্দ্দার পাড়াসহ অন্তত দশটি গ্রাম। এই গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের নদী পার হতে একমাত্র ভরসা রামনাথের ভিটা স্টেশন বাদিয়াখালী এলাকার পাকা রাস্তায় সংযোগের একটি সাঁকো। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা দরিদ্র। দিনভর গতর খাটে কৃষি জমিতে অথবা ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালায় এবং গার্মেন্টসে কাজ করেন।

স্টেশন বাদিয়াখালীর বাসিন্দা মানবাধিকারকর্মী কাজী আব্দুল খালেক বলেন, এসব গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কাঠ ও বাঁশের সাঁকো। দশ গ্রামের লোকজন চাঁদা তুলে নিজেরা প্রতি বছর সাঁকোটি তৈরি করেন। বছর বছর সাঁকো মেরামত করেন গ্রামে গ্রামে চাঁদা তুলে। তারপর নিজেদের টাকায় বাঁশ-কাঠ কিনে তৈরি করেন সাঁকো। হাজার হাজার নারী পুরুষের দাবি থাকলেও এখানে দীর্ঘদিনেও কোনো ব্রিজ করা হয়নি। সাঁকোই ভরসা।

তবে লোকজনের অভিযোগ ভোট এলে প্রার্থীরা আসেন আর প্রতিশ্রুতি দেন-আমাকে ভোট দিলে আমি এখানে ব্রিজ তৈরি করে দেব। প্রতিশ্রুতির কথা শুনতে শুনতে দশ গ্রামের মানুষ এখন বিরক্ত।

এই গ্রামগুলোতে অনেক মানুষের বসবাস থাকলেও নেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক অথবা হাট-বাজার। এই কয়েকটি গ্রামের মানুষকে হাট-বাজারসহ তেল লবণসহ জরুরি ওষুধ কিনতে গেলেও আসতে হয় স্টেশন বাদিয়াখালীতে।

এলাকাবাসীর দাবি এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে দশ গ্রামের মানুষ নতুন জীবন পাবে। ওই সব গ্রামের শত শত শিশু নির্ভয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে, গ্রামের উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ গরুর দুধ হাটে-বাজারে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা সহজ হবে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে কথা হয়েছে। চেয়ারম্যানের সুপারিশে সেখানে বাঁশ ও কাঠের সাঁকো নির্মাণের বরাদ্দ এসেছে। ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হলেও বাজেট মেলেনি।