আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে শুক্রবার সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।
ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বাড়তি সরকারি ব্যয়, করছাড় এবং নতুন নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই নির্বাচন ডাকছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। প্রস্তাবিত নিরাপত্তা নীতির মাধ্যমে জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
'এই নির্বাচনের মাধ্যমেই আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। দেশের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত জনগণ সরাসরি নেবে,' বলেন তাকাইচি।
নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত ৮ শতাংশ কর দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাকাইচি। তার দাবি, এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, গৃহস্থালি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং পরোক্ষভাবে অন্যান্য কর রাজস্বও বাড়বে।
দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, খাদ্যদ্রব্যে আরোপিত কর ছাড় কার্যকর হলে বছরে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন রাজস্ব হারাতে পারে সরকার। এই ঘোষণার পরই সোমবার জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
এই আগাম নির্বাচনে, জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনে ভোট হবে। গত বছরের অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাকাইচির প্রথম জাতীয় নির্বাচনী পরীক্ষা।
বিশ্লেষকদের মতে, আগাম নির্বাচন ডেকে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে চান তাকাইচি। একই সঙ্গে জোট সরকারের নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা মজবুত করাও এই কৌশলের অংশ।
তবে বাড়তি সরকারি ব্যয়ের প্রশ্নে ভোটারদের সমর্থন আদায় বড় চ্যালেঞ্জ। জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকের সাম্প্রতিক জরিপে ৪৫ শতাংশ জাপানিজ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে প্রধান 'উদ্বেগ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কূটনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের তালিকায় রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।
বলা যায়, অর্থনীতি, করনীতি আর নিরাপত্তা— এই তিন ইস্যুতেই ঘুরছে জাপানের আসন্ন নির্বাচন। ফলাফল নির্ধারণ করবে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।
শীর্ষনিউজ