Image description

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও ইঙ্গিতকে ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছে ডেনমার্ক। দেশটি বলছে, ন্যাটো জোটের ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে এমন ভাষা ব্যবহার করা অনুচিত এবং গ্রিনল্যান্ড ‘কোনওভাবেই বিক্রির মতো নয়’। একইসঙ্গে ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘হুমকি’ দেয়া বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসন। খবর বিবিসি

 

ডেনিশ এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার কথা বলা ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’। তার ভাষায়, ‘ডেনিশ রাজত্বভুক্ত তিনটি দেশের কোনওটিই যুক্তরাষ্ট্র দখল করতে পারে না। এমন কোনও অধিকারই তাদের নেই’। তার এই মন্তব্য এসেছে এমন সময় যখন ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর স্ত্রী কেটি মিলার সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্রকে মার্কিন পতাকার রঙে রাঙিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেন। এর সঙ্গে সেখানে লেখেন— ‘শিগগিরিই’।

ট্রাম্প অবশ্য একাধিকবার বলেছেন, কৌশলগত অবস্থান ও খনিজসম্পদের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হলে তা লাভজনক হবে। ডেনিশ সরকারের ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে ফ্রেডেরিকসন আরও বলেন, তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘খুব সরাসরিই’ কথা বলছেন।

তিনি জানান, ডেনমার্ক এবং সেইসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডও ন্যাটো জোটের সদস্য এবং জোটের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আওতায় রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্কের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে, যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকার পায়। একইসঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বিনিয়োগও বাড়িয়েছে ডেনমার্ক।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করব— একটি ঐতিহাসিক মিত্রদেশ এবং এমন আরেক দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়া বন্ধ করুন, যারা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়ে যে তারা বিক্রির জন্য নয়।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনিশ রাষ্ট্রদূত কেটি মিলারের পোস্টের জবাবে ‘বন্ধুসুলভ আচরণ স্মরণ’ করিয়ে বলেন, দুই দেশ একে-অপরের মিত্র এবং ডেনমার্ক তার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান আশা করে।

বিবিসি বলছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এলো যখন গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। পরে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ভেনেজুয়েলা চালাবে’ এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ‘দেশটির জন্য অর্থ আয় করা শুরু করবে’।

এছাড়া গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, কৌশলগত অবস্থান ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের প্রাচুর্যের কারণে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।

এমন অবস্থায় সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিশেষ দূতও নিয়োগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়েও ডেনমার্কে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

প্রসঙ্গত, ৫৭ হাজার মানুষের আবাস গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটি ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপকভাবে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছে। তবে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনও ডেনমার্কের হাতে। গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ ভবিষ্যতে নিজেদের ভূখণ্ডকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চান। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চাওয়ার বিষয়ে দ্বীপটিতে বিরোধিতাও বেশ ব্যাপক বলে জরিপে দেখা গেছে।