Image description
 

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই। স্থায়ী শুধু স্বার্থ। শনিবার এনডিটিভি আয়োজিত ‘ডিফেন্স সামিট’ বা প্রতিরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাজনাথ সিং এই মন্তব্য করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজনাথের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে যখন ভারতের এক সময়ের ‘বন্ধু’ যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে, আর ‘শত্রুভাবাপন্ন’ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করছে। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারত-চীনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত এবারই প্রথম চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় শক্তিশালী করছে।

আগামী রোববার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সময়ে তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত হবে এসসিও সম্মেলন, যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই তিন দেশ আপাতত জোটবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

 

রাজনাথ সিং বলেন, আজকের বন্ধু কালকের শত্রু হতে পারে, তবে ভারত কাউকেই শত্রু মনে করে না। পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা নিরাপদ নয়। তাই অর্থনীতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের স্বনির্ভরতা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, মহামারি, সন্ত্রাসবাদ বা আঞ্চলিক সংঘাত—সবই নতুন চ্যালেঞ্জ এবং এই পরিস্থিতিতে আত্মনির্ভরতা ছাড়া বিকল্প নেই।

 
 

তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০১৪ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল মাত্র ৭০০ কোটি রুপি, যা বর্তমানে বেড়ে ২৪ হাজার কোটি রুপি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, ভারত স্বনির্ভর হয়ে উঠছে এবং আমদানিকারক থেকে রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে।

 

শুল্কসংক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। সীমান্ত সংঘাত ভুলে চীনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং জানিয়েছেন, ভারতীয় পণ্য যুক্তরাষ্ট্র না কিনলে চীন তা কিনবে। শুল্কযুদ্ধের সমাধান এখনো অজানা থাকলেও, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, দেশ কখনো চাপের কাছে মাথা নেবে না। ভারত বৈষম্য মেনে নেবে না এবং নতুন বাজার খুঁজবে, যেখানে পণ্য রপ্তানি করা যাবে।

গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে পীযূষ গোয়েল বলেন, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের রপ্তানি ২০২৪-২৫ সালের চেয়ে বেশি হবে।