Image description

বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় পার্টি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সকল অপকর্মের সহযোগী। ১৯৮৪ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত তারা স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে দেশের মানুষকে বিষিয়ে তুলেছিল। জুলাই বিপ্লবেও তারা ছাত্রজনতার পক্ষে ছিল না। দেশে আওয়ামী লীগের কর্মকান্ড যেহেতু নিষিদ্ধ তাই জাতীয় পার্টির কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার আইনী প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূরের ওপর হামলা ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, নূরের ওপর হামলা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ হামলা ন্যাক্কারজনক ও অগ্রহণযোগ্য। হাসিনা ও তার অনুগতদের ওপর মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর রাগ রয়েছে। এসব কারণে মানুষ তাদের আক্রোশ মেটাচ্ছে। এটাকে মব বলা যাবে না। সরকার এসব কার্যক্রম সমর্থন করে না। যেখানেই এমন বিশৃঙ্খলা তৈরী হচ্ছে সেখানেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছুটে যাচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, চোরাবালিতে ডুবে যাওয়া এই বাংলাদেশ এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। নতুন বাংলাদেশ বির্নিমাণে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমরা জীবন দিয়েছে। এই নতুন বাংলাদেশে কোনো দুর্নীতিবাজকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়া হবে না। আমরা দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই।

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ব্রিটেনে গণতন্ত্র ফেরাতে স্বৈরশাসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছিল বলেই আজ সেখানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ বিরাজমান। ১৬৪৯ সালে ব্রটিশ রাজা চার্লস প্রথমকে হত্যা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল স্বৈরশাসক অলিভার ক্রমওয়েল। তার বিচারের জন্য ‘রেজিসাইড কোর্ট’ গঠিত হয়েছিল। তদন্তে চার্লস হত্যার অন্যতম মূল কারিগর হিসেবে অলিভার ক্রমওয়েলের নাম সামনে আসে। যদিও তিনি তখন মৃত, তবুও প্রতীকী ন্যায়বিচারের জন্য তার লাশ কবর থেকে তোলা হয়। ১৬৬১ সালের জানুয়ারিতে ক্রমওয়েল, বিচারক জন ব্র্যাডশ এবং ক্রমওয়েলের জামাতা সেনানায়ক হেনরি আয়রটনের লাশ খুঁড়ে বের করা হয়। ১৬৬১ সালের ৩০ জানুয়ারি ওয়েস্টমিনস্টার হলের টাইনবার্নে নিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ফাঁসির পর মাথা কেটে আলাদা করা হয় এবং ওয়েস্টমিনস্টার হলের উপর প্রদর্শন করা হয়। এটা দেখে সেখানে আর কোনো ফ্যাসিষ্ট বা স্বৈরশাসক জন্ম হয়নি।

ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র অনার্স কলেজের প্রিন্সিপাল ড. আবু বকর সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এসএম আমানুল্লাহ, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা জামায়াতের আমীর আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সাখওয়াত হোসেন বক্তব্য রাখেন।