Image description

বর্তমানে পুলিশ সদর দফতরেরও আপত্তি নাই। ৭৫৭ জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এবং সার্জেন্ট থেকে চাকরিতে যোগদানে আগ্রহী ৩৩০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দফতর থেকেই মতামত দেওয়া হয়েছে বঞ্চিতদের পক্ষে। দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সব শেষে গত পাঁচ মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টার দফতরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন এসব চাকরিপ্রার্থী। চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন, নিবেদন, সংবাদ সম্মেলন এবং সরকারের সব দফতরের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পরও কী কারণে বিষয়টি দীর্ঘায়িত হচ্ছে জানেন না কেউ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শারীরিক, লিখিত, মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও সার্জেন্ট পদে ৭৫৭ জনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল চার দলীয় জোট সরকার। তবে ‘দলীয় বিবেচনায়’ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এনে ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সরকার কোনও নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণ না করেই একটি নোটশিটের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তাদের আর নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট প্রথমে সংবাদ সম্মেলন ও পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এবং সার্জেন্ট পদের নিয়োগবঞ্চিতরা। এরপর তাদের আবেদনের ফাইলগুলো দ্রুতগতিতেই এগোতে থাকে। সর্বশেষ গত এপ্রিলে প্রধান উপদেষ্টার দফতরে গিয়ে বিষয়টি আবার গতি হারিয়ে ফেলে।

নিয়োগবঞ্চিতদের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলীয় বিবেচনার অজুহাতে ২০০৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত অমানবিকভাবে আমাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। দীর্ঘ ১৮ বছর পর অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব সেক্টরে নিয়োগ বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াটির বিষয়ে জানার জন্য প্রধান উপদেষ্টার দফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনও জবাব পাচ্ছি না।’

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘আমাদের এই ব্যাচে এখনও ৪০ জন মেয়ে প্রার্থী রয়েছেন। বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের লোকজন আছেন। আমরা এই ন্যায় বিচারের অধিকারটুকু ফিরে পেতে চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা সর্বশেষ সিদ্ধান্তের জন্য সব পক্ষের আইনি মতামতসহ প্রধান উপদেষ্টার দফতরে ফাইল পাঠিয়েছি। সেখানকার সিদ্ধান্ত পেলেই তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আবার শুরু করা হবে।’