Image description

প্রচণ্ড গরম, ব্যারিকেড এবং কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তেলাপোকা (ককরোচ) জনতা পার্টির আন্দোলনে শুক্রবার শিবাজি পার্কে হাজার হাজার তরুণ বিক্ষোভকারী যোগ দিয়েছিলেন। তেরঙ্গা পতাকা, ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার, সিনেমার প্রসঙ্গ এবং স্লোগান সহ আন্দোলনকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এসএফআই এবং অন্যান্য যুব সংগঠনের সদস্যরাও ছিলেন। বিক্ষোভ চলাকালে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগগুলো সমাধানে সরকারের ব্যর্থতার কারণেই দুই মাসের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন।

দীপকে বলেন, তার ‘গো, জ্ঞানু, গো’ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আগেই গান্ধী জয়ন্তীর দিনে এই আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল তেলাপোকা পার্টি। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে পরবর্তী সময়ে ভারতের বিভিন্ন শহরে এই আন্দোলন তীব্র করে তোলা হবে বলে অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন।
শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে মুম্বইয়ে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র এই বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জনগণকে এই বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকার জনগণের ভোট ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে এবং বলেছেন, এই আন্দোলন রাজনীতির জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সংবিধানের জন্য। ঠাকরে প্রধান নির্বাচন উরংঢ়ষধু জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেন।

এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হয়েছেন অন্তত ১১০০ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অতীশীও। তাকে যন্তর মন্তর থেকে রীতিমতো টানতে টানতে নিয়ে গিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আটক হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাট, আইসা নেত্রী নেহা বোরা, আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং-সহ আপের একাধিক শীর্ষ নেতা। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ছাত্র-যুব ও নাগরিক সমাজ। যার মূল উদ্যোক্তা ছিল আপ, আইসা, রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। কিন্তু পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। জমায়েত রুখতে যন্তর মন্তর এবং নয়াদিল্লির অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছিল। পাশাপাশি মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও অননুমোদিত সমাবেশ ঠেকাতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। বহু রাস্তা ও ১১টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।