যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া হবে, নাকি দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে—এ বিষয়ে তাকে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে কি এমন একটি চুক্তি হবে, যাতে তারা পুনর্গঠন করতে পারে এবং আগের চেয়েও শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠতে পারে? নাকি আমি ইসলামিক রিপাবলিককে ধ্বংস করে দেব এবং তা দ্রুত করব?
ট্রাম্পের দাবি, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কেমন ফল করে, তা দেখার জন্য ইরান অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, তিনি নিজে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী নন। তাঁর ভাষায়, তারা বুঝতে পারছে না যে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না। আমি এরই মধ্যে নির্বাচন করেছি এবং বিপুল ব্যবধানে জিতেছি।
নির্বাচনের ফলাফল ইরান নিয়ে তার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, একমাত্র বিষয় হলো, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।
ট্রাম্প দাবি করেন, ক্ষমতায় আসার পর তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিলেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধের বিনিময়ে তেহরানকে ‘পূর্ণ অর্থনৈতিক সহযোগিতা’ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। ইরান তা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে নিশ্চিহ্ন’ করে দিয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের ১৫৯টি নৌযান, বিমানবাহিনী, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনক্ষমতাও প্রায় শেষ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তার দাবি, পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন দেশের বেসামরিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে গোলাবারুদ কমে যাচ্ছে— এমন দাবি সত্য নয়। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং দেশটি নজিরবিহীন মাত্রায় অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। সংঘাত এরপর পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি