Image description

এক অসুস্থ আত্মীয়কে হাসপাতালে দেখতে এসে চিরতরে চলে গেলেন একই পরিবারের আট সদস্য। বুধবার (৩ জুন) সকালে ভারতের দক্ষিণ দিল্লির মালবীয় নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন গুরুগ্রামের এই হতভাগা পরিবারটি। সামান্য সময়ের জন্য হাসপাতালে আসার কথা থাকলেও, এক মুহূর্তের আগুনে পুরো পরিবারটি ধ্বংস হয়ে গেল।

সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, তার স্ত্রী, দুই কন্যাসহ বয়োবৃদ্ধ আত্মীয়-স্বজনরা ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা হোটেলের প্রথম তলার দুটি রুমে অবস্থান করছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানেই প্রথম আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে তাদের রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।

পরে স্বজনরা যখন খোঁজখবর নিয়ে স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে পৌঁছান। ততক্ষণে ওই আটজন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তদন্তে জানা গেছে, নিহত বিবেক আগরওয়াল (৪৭) গুরুগ্রামের সেক্টর ৪৬-এর বাসিন্দা ও পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছিলেন। ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার সত্তরোর্ধ্ব অসুস্থ বাবা রাধে শ্যাম আগরওয়ালকে দেখতে তিনি সপরিবারে দিল্লি এসেছিলেন। হোটেলটি হাসপাতাল থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে হওয়ায় তারা সেখানেই উঠেছিলেন। কিন্তু বাবার সঙ্গে দেখা করার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিবেক ছাড়াও প্রাণ হারিয়েছেন তার মা প্রেমলতা, স্ত্রী তারিনী আগরওয়াল (৪২), দুই মেয়ে অ্যাঞ্জেল ওরফে জিভিসা (১৭) ও পার্ল ওরফে বারিয়া (২০), খালা কমলা গোয়েল এবং দুই খালু ঝুমরি লাল গোয়েল ও অশোক গোয়েল। নিহত দুই মেয়ের মধ্যে একজন সদ্য দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছিল।

স্বজনরা জানান, প্রবীণ দম্পতি ঝুমরি লাল ও কমলা গোয়েল বুধবার ভোর ৪টায় আজমির থেকে এসে হোটেলে ঘুমিয়েছিলেন। তারা টের পাওয়ার আগে আগুন তাদের গ্রাস করে।

এদিকে ঘটনার পর ম্যাক্স হাসপাতালে স্বজনদের খুঁজতে গিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও বিলম্বের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন এক আত্মীয়। তিনি জানান, ‘আমরা বার্ন ওয়ার্ডে ঢুকতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে সেখানে শুধু বিদেশী নাগরিকরা আছেন। কিন্তু আমি জোর করে ভেতরে ঢোকার পর বিবেকের এক মেয়েকে শনাক্ত করি। এরপর হাসপাতাল কর্মীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।’

বুধবার সারাদিন ম্যাক্স হাসপাতাল এবং এইমস মর্গের সামনে নিহতদের পরিবারের প্রায় ২০-২৫ জন সদস্য ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে বিবেক আগরওয়ালের এই অকাল মৃত্যুতে গুরুগ্রামের প্রতিবেশীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী যোগেন্দর যাদব বলেন, ‘বিবেক ভীষণ ভদ্র ও সমাজসেবী মানুষ ছিলেন। এলাকার যে কোনো সমস্যায় তিনি এগিয়ে আসতেন। তার স্ত্রীও একটি এনজিও চালাতেন। পুরো পরিবারটি এভাবে শেষ হয়ে যাবে তা ভাবা যায় না।’