Image description

রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে সবাইকে সুবিধা না দিয়ে, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু দেশকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।

তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন দেশ-ভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির সামনে সাংবাদিকদের বেসেন্ট বলেন, ‘ভবিষ্যতে যদি আরও কোনো ছাড় দেওয়া হয়, তবে তা ঢালাও কোনো ঘোষণা হবে না। সেটি হবে সম্পূর্ণ দেশ-ভিত্তিক।’

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতোমধ্যে সমুদ্রে ভাসমান রুশ তেলবাহী জাহাজের ওপর দুইবার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে। মূলত, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু করার পর বিশ্বজুড়ে তেলের যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে আমেরিকা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তেহরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে সরবরাহ করা হয়। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে এবং জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলো চরম বিপাকে পড়ে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বুকে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও মারাত্মক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা ছাড় দেওয়া হলে মস্কো আর্থিকভাবে লাভবান হবে কি না—বৃহস্পতিবার এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হন বেসেন্ট।

জবাবে নিজের যুক্তি তুলে ধরে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি বলেন, ‘এই ছাড়ের কারণে রাশিয়ার বাড়তি কোনো লাভ বা রাজস্ব আয় হয়নি। তাদের তেলের অধিকাংশইযাচ্ছিল চীনে, আর এই ছাড়ের ফলে এখন তেল আমাদের মিত্র দেশগুলোর কাছেও যেতে পারবে।’

বিশ্ববাজারের তেলের ঘাটতি মেটাতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ গত মার্চ মাসে জাহাজে বোঝাই করা ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল। এরপর সর্বশেষ মে মাসে, সমুদ্রে ভাসমান রুশ তেলের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ আরও ৩০ দিনের জন্য বাড়ায় মার্কিন প্রশাসন।