Image description

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে চলছে চরম অস্থিরতা। হিন্দুত্ববাদী ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ বাংলা ভাষাভাষি কিছু মুসলমানকে ‘বাংলাদেশের নাগরিক’ ট্যাগ দিয়ে সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জেলা থেকে ধরে এনে সীমান্তে অমানবিকভাবে দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে রেখে কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। সীমান্তে জড়ো করা ওই নারী-পুরুষ-শিশুদের অবর্ণনীয় দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিদিন খবর প্রচার হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) ১০টি পৃথক অপচেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বিজিবি। বিজিবি’র তীব্র প্রতিরোধের মুখে সীমান্ত দিয়ে জড়ো করা বাংলা ভাষাভাষিদের বাংলাদেশে পাঠাতে পারেনি। গতকাল বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় সম্ভাব্য ‘পুশইন’ প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারিসহ টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

দীর্ঘ ১৮ বছর সীমান্ত কার্যত ভারতের বিএসএফ সর্বেসর্বা ছিল। ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের সরকারের দুই বছর ও আওয়ামী লীগের ১৫ বছর ৮ মাসের শাসনামলে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বিজিবিকে কার্যত ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফের দারোয়ান বানিয়ে রাখা হয়েছিল। দিল্লির দাসত্ববরণ করে শেখ হাসিনা কার্যত বাংলাদেশের দেশপ্রেমি আধা-সামরিক বাহিনী বিজিবিকে সীমান্তে বিএসএপের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই দেয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। বাংলাদেশের বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমানের নির্বাচিত সরকার সীমান্তে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ফলে সীমান্ত রক্ষী বিজিবি সীমান্তে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় তৃর্ণমূল কংগ্রেসের সরকার থাকার সময় বিএসএফ কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও গত মাসে ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি ক্ষমতা গ্রহণ করায় সীমান্ত এলাকা উত্তপ্ত করে তোলা হয়। হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেপরোয়া হয়ে উঠায় সীমান্ত অবৈধ পুশইন-পুশব্যাক নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

ইনকিলাবের প্রতিনিধিরা জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত, যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত, জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্ত, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্ত, পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্ত, সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্ত, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত, নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্ত দিয়ে কয়েকশ মুসলিমধর্মের নারী-পুরুষ-শিশুকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কড়া প্রহরা এবং প্রতিরোধের মুখে একজনকেও বাংলাদেশে পাঠাতে পারেনি। কোনো কোনো সীমান্তে দেখা গেছে ভারতীয় বিএসএফের সঙ্গে বাংলাদেশের বিজিবির সদস্যরা তর্ক করছেন। সীমান্তে জড়ো করা মানুষগুলো যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন তাহলে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণসহ দুই দেশ কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠাতে পারে এমন বক্তব্য শোনা যায়। কিন্তু ভারতের সীমান্তের বিএসএফ সীমান্তে জড়েরা করা বাংলা ভাষাভাষিদের বাংলাদেশে পাঠাতে গোয়ার্তুমির করে। এতে আরো কঠোর হয়ে যান বিজিবির সদস্যরা।

গতকাল বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশইন করার প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝিনাইদহে বিজিবির মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ঝিনাইদহের মহেশপুরের সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে পুশইনের জন্য আনা হয়। বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে এসব ব্যক্তিকে আবার ভ্যানে তুলে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ। বিজিবির খুলনা ব্যাটালিয়ন যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে। জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফ ক্যাম্পের কাছে পুশইন, ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের কাকরমনি ক্যাম্পের টহল দল দুই বাংলাদেশিকে আটক করে হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। পঞ্চগরের রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ এক ব্যক্তিকে পুশইন করে। স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে বিজিবিকে জানান। পরে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের ২২ জনকে পুশইন করার লক্ষে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া যায়। বিজিবি সেখানে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণ ধরে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ভারতে ‘পুশব্যাক’ করা হয়।

এছাড়া নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানার বলিশী গীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫-২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার উদ্দেশে আনা হয়। এ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় এলাকাটি দিয়ে পুশইন করার আশঙ্কা বিবেচনায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

খুলনা ব্যুরো জানায়, সাতক্ষীরা সীমান্তে ২৫-২৬ জনকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা হয়েছিল। তবে বিজিবির কঠোর প্রতিরোধমূলক তৎপরতার কারণে তারা পুশইনের কোনো সুযোগ পায়নি। উদ্ভূত সীমান্ত উত্তেজনার কারণে ভোমরা স্থলবন্দর সীমান্ত এলাকাসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন সীমান্তঘাটে কড়া নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১০ দিন ধরে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, পুশইন চেষ্টা নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বিজিবি সদস্যরা কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন। সীমান্তে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন ও টহল বাড়ানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে যেকোনো পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আলি আসগার লবি এমপি ইনকিলাবকে জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশে না পড়লেও পুশব্যাকের চেষ্টা করা হলে সেটি হবে রাজনৈতিক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।
যশোর ব্যুরো জানায়, বিজিবির খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের নিকট অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবির প্রতিরোধমূলক তৎপরতার ফলে বিএসএফ তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

সিলেট ব্যুরো জানায়, উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন ২ ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণ আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতে পুশব্যাক করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) জানায়, যাদবপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৪-৫ জন ব্যক্তি বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা প্রদান করে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। এদিকে মহেশপুরের সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে সীমান্ত গেট খুলে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি টহলদল ও স্থানীয় জনসাধারণের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের পুনরায় ভ্যানে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

জয়পুরহাট জেলা সংবাদদাতা জানান, জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিকে একত্রিত করে পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়। পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার ফলে বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে ১৪৯ ও ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ ক্যাম্পের নিকটবর্তী ৩টি হোল্ডিং সেন্টারে ‘এসআইআর’ (ঝওজ) তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪ জন মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। অন্যদিকে, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) জানায়, সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদা জেলার ইংলিশ বাজার থানার চন্দনপার্ক নামক স্থানে ভারতীয় পুলিশ কর্তৃক স্থাপিত একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশইনের লক্ষ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। উভয় সীমান্তেই বিজিবি কঠোর অবস্থান ও কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা জানান, পঞ্চগড়ের ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) জানায়, রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ১ জন ব্যক্তিকে পুশইন করা হলে স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে বিজিবিকে অবহিত করে। পরবর্তীতে বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।

ঠাকুরগাঁও জেলা সংবাদদাতা জানান, ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে ৮৭ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের কাকরমনি ক্যাম্পের টহলদল ২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিজিবির সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি।

নেত্রকোনা জেলা সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন বলিশী গীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫-২০ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে একত্রিত করে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সীমান্তের একটি অংশে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওই এলাকা দিয়ে পুশইনের সম্ভাবনা বিবেচনায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গুজরাটে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক ৪২৪
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ‘পূবের কলম’ গণমাধ্যম জানায়, ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ ধরতে রাজ্যজুড়ে অপারেশন ডেল্টা হান্ট নামে বিরাট অভিযান চালিয়েছে গুজরাট সরকার। এ অভিযানের মাধ্যমে বাংলাদেশি সন্দেহে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করেছ পুলিশ। গতকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে এ সংখ্যক মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়েছে।

গত বুধবার গান্ধীনগরে সংবাদ সম্মেলন করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভি। সেখানে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরো বলেন, নথিপত্র জালিয়াতি করে যারা এদেশে থাকছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গুজরাটে যেসব অনুপ্রবেশকারী রয়েছে তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে শুধু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাই নেয়া হবে না, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলেও সতর্ক করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ৪২৪ জনকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও কয়েক হাজার মানুষের নথিপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের জিজ্ঞসাবাদ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে গুজরাটে বাংলাদেশি সন্দেহে ৩৬০ জনকে গ্রেফতার করেছিল গুজরাট পুলিশ। গুজরাট সরকার জানিয়েছে, এ অভিযানের অংশ হিসেবে তদন্তকারীরা সন্দেহের তালিকায় থাকা ৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষের ডেটাবেস তৈরি করেছেন।

এদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশে ফোন করে যোগাযোগ করেছে বলে খবর। এ বিষয়ে গুজরাট পুলিশের ডিজি ড. কেএলএন রাও জানান, অনুপ্রবেশকারীদের সন্ধান পেতে প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন ৬ হাজার ২০০ জন। তাদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, গুজরাট জুড়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় একটানা এ অভিযান চালায়। তবে শুধু অনুপ্রবেশকারীদেরকেই আটক করা হচ্ছে না, যারা ভুয়ো নথি বা পরিচয়পত্র তৈরিতে সাহায্য করেছে তাঁদেরকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশের ডিজি জানিয়েছেন। পুলিশের দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের অনেকেই নিজেদের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে দাবি করেছে।

আবার অনেক প্রকৃত পরিযায়ী শ্রমিকও রয়েছে। তবে কারা অনুপ্রবেশকারী তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের অনেকেই আহমেদাবাদ, সুরাট, রাজকোট, ভাদোদরা এবং ভারুচের মতো শিল্প কেন্দ্রগুলোতে কর্মরত।

এদিকে, পুলিশের অভিযানের খরব পেয়েই অনেকে বাস বা রেল পথে পালানোর চেষ্টা করেন। এরকম ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলার সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।