Image description

দীর্ঘ ৮০ দিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বাজার ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) ও বুধবার (২০ মে) থেকে শেয়ার, ইক্যুইটি ফান্ড এবং ডেরিভেটিভস লেনদেন পুনরায় শুরু হবে। যুদ্ধকালীন ক্ষতির তথ্য প্রকাশ এবং কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা তুলে ধরার জন্য লেনদেনের সময়ও বাড়ানো হয়েছে।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে, যার পরপরই লেনদেন স্থগিত করা হয়।

ইরানের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্গানাইজেশনের উপপ্রধান হামিদ ইয়ারি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সম্পদ সুরক্ষা এবং আতঙ্কজনিত বিক্রি ঠেকাতেই সাময়িকভাবে বাজার বন্ধ রাখা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজার বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক ধস ঠেকানো গেলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। এতে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

২০২৬ সালের শুরুতে বাজারের প্রধান সূচক ‘টেডপিক্স’ ৪৫ লাখ পয়েন্ট ছাড়ালেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের পর তা কমে প্রায় ৩৭ লাখ পয়েন্টে নেমে আসে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বাজার খুললেও বিনিয়োগকারীরা শেয়ার থেকে সরে গিয়ে স্বর্ণ, ডলার, রিয়েল এস্টেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-এর মতো বিকল্প সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন।

ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত অর্থ ছাপানোর ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

এদিকে যুদ্ধ চলাকালে পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত ও পরিবহন খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাতই দেশটির পুঁজিবাজারে বড় প্রভাব ফেলে।

ইউরেশিয়ান নেক্সাস পার্টনার্সের বিশ্লেষক বিজান খাজেহপুর বলেন, বাজার পুনরায় চালুর সময় কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, কারণ অনেক বিনিয়োগকারী দ্রুত শেয়ার বিক্রি করতে পারেন।

উল্লেখ্য, ইরানের শেয়ারবাজারে মূল্য ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ সীমা নির্ধারণ করা রয়েছে, যা আকস্মিক ধস ঠেকাতে সহায়তা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: আল-জাজিরা

শীর্ষনিউজ