Image description

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরান পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চলমান সংঘাত আরও বাড়ালে বিশ্বের অন্যতম এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিবে দেশটি। ইরানের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে বলছে, ইরান জানিয়েছে, যদি তাদের দ্বীপ, বিশেষ করে খার্গ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, তাহলে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এই প্রণালিটি সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করে। ইতোমধ্যেই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন বাব আল-মান্দেবেও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়বে।

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা এই পথ দিয়ে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ১২ শতাংশ যাতায়াত করে। এটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম শিপিং রুট। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই প্রণালির কাছেই ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীদের ঘাঁটি রয়েছে।

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সূত্রের বরাতে জানায়, ‘শত্রুপক্ষ যদি ইরানের দ্বীপ বা দেশের অন্য কোথাও স্থল হামলা চালাতে চায়, অথবা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে নৌ তৎপরতার মাধ্যমে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে আমরা তাদের জন্য নতুন ফ্রন্ট খুলে দেব।’

সূত্রটি আরও জানায়, ‘তাদের এমন পরিস্থিতিতে ফেলা হবে, যাতে তাদের পদক্ষেপ কোনও লাভই দেবে না, বরং তাদের ক্ষতি দ্বিগুণ হবে।’

ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে যোগ দেবে। এর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করা হবে।

তাসনিমের সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘শায়েস্তা’ করতে এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। তারা দাবি করেছে, এই সমুদ্রপথে ইরানের বিশ্বাসযোগ্য হুমকি তৈরি করার সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি আনসারুল্লাহ বা হুথি বাহিনীও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সমর্থন করার পাশাপাশি অস্ত্রও সরবরাহ করে থাকে ইরান। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরু করলে ওই অঞ্চলে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যায়।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, তাদের কাছে এমন তথ্য আছে যে ‘শত্রুরা’ আঞ্চলিক একটি দেশের সহায়তায় ইরানের কোনও একটি দ্বীপ, সম্ভবত খার্গ দখলের পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাহিনী শত্রুপক্ষের সব গতিবিধি নজরে রাখছে। তারা যদি কোনও পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ওই আঞ্চলিক দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে টানা ও নিরবচ্ছিন্ন হামলা চালানো হবে।’

শীর্ষনিউজ