কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপদেষ্টাদের বলেছেন—তিনি একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসান ঘটাতে চান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এ সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি বিশ্বাস করেন এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। তিনি তার সহযোগীদের এই সময়সীমা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বলেছেন যে, তারা আশা করছেন—চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রত্যাশিত বৈঠকের আগেই পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান হয়ে যাবে।
এই সংঘাত ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, কারণ তিনি আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনসহ অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য রক্ষা করছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু মিত্র দেশ আরও আক্রমণাত্মক পন্থা অবলম্বনের জন্য চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে অন্যরা কূটনীতির পক্ষে।
বুধবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চান, কিন্তু তেহরান যদি ‘বর্তমান মুহূর্তের বাস্তবতা’ মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এদিকে গত তিন দিনের ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ পর ওয়াশিংটন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছে। অপরদিকে ইরান বারবার যে কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।
লিভিট বলেছেন, ইরান যদি এটা মেনে নিতে ব্যর্থ হয় যে তারা ‘সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে’, তবে ট্রাম্প দেশটিতে আগের চেয়েও বড় সামরিক হামলা চালাবেন।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি ১৫-দফা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, যেখানে তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। ইরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যে কোনো যুদ্ধবিরতি তাদের শর্ত ও সময়সীমা অনুযায়ী হবে এবং যুদ্ধ শেষ করার জন্য পাঁচটি শর্ত দিয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে ‘আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা’ সম্পূর্ণ বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সম্ভাব্য মুখোমুখি আলোচনা, যার মধ্যে পাকিস্তানে একটি সম্ভাব্য বৈঠকের খবরও রয়েছে। এ বিষয়ে লেভিট বলেন, হোয়াইট হাউস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই আনুষ্ঠানিক বলে গণ্য করা উচিত নয়। সপ্তাহান্তে পরিকল্পিত যে কোনো আলোচনা নিয়ে ‘অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো’ করার বিরুদ্ধে তিনি সতর্ক করেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে আসছে, এতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে।